ওঙ্কার ডেস্ক: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বহুল আলোচিত নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে এবার তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করার বড়সড় ইঙ্গিত দিল রাজ্যের নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নয়, গোটা ঘটনার সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের উচ্চস্তর পর্যন্ত তদন্তের আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে, সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য এই ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইতিমধ্যেই তৎকালীন কলকাতা পুলিশের তিন গুরুত্বপূর্ণ আইপিএস আধিকারিক প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ডিসি নর্থ ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি সেন্ট্রাল অভিষেক গুপ্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন এবং ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়াও নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনিক আচরণ, ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব এবং ঘটনার পর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, বার্তা আদানপ্রদান, সরকারি নির্দেশ এবং বিভিন্ন বৈঠকের নথি খতিয়ে দেখা হবে। কার নির্দেশে তাঁরা কাজ করছিলেন, সাংবাদিক বৈঠকে কীভাবে বক্তব্য নির্ধারিত হচ্ছিল, এবং প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে কোনও নির্দেশ এসেছিল কি না, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষভাবে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, তিনি নিয়মিতভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে সরকারি অবস্থান ব্যাখ্যা করছিলেন, যদিও তাঁর নির্দিষ্ট প্রশাসনিক দায়িত্ব সেই ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তিনি কার নির্দেশে এই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন।
বিজেপি নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ক্ষমতায় এলে আর জি কর কাণ্ডে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে। বিচারের আশায় আরজি কর মামলায় নির্যাতিতার মা পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপি-র হয়ে ভোটে লড়েছেন এবং একটি আসনও জিতেছেন। নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথকে এবং তাঁর পরিবারকে বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল পদ্মফুল শিবির। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবেই বর্তমান সরকারের এই কড়া অবস্থান বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
এই তদন্তের অগ্রগতি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরেও বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, তদন্ত যত গভীরে যাবে, ততই প্রাক্তন সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে আসার সম্ভাবনা বাড়ছে। আর জি কর কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই জনমনে প্রবল ক্ষোভ এবং ন্যায়বিচারের দাবি তৈরি হয়েছে। ফলে এই তদন্ত রাজ্যবাসীর কাছে শুধু একটি অপরাধ তদন্ত নয়, বরং প্রশাসনিক জবাবদিহিরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছে।