এবার হাওড়া জেলার দেউলটি স্টেশনের নাম বদলের আর্জি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিল অখিলভারত হিন্দুমহাসভার পশ্চিমবঙ্গ শাখা। তাদের দাবি, ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা দেউলটি। তাই তাঁর নামেই স্টেশনের নামকরণ করা হোক জানিয়ে তিন দফতরে চিঠি দিয়েছেন সংগঠন কর্তৃপক্ষ।
জন্য যাচ্ছে, অখিলভারত হিন্দুমহাসভার পশ্চিমবঙ্গ শাখার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে সংগঠনের এক প্রতিনিধি দল দিল্লিতে গিয়ে সরাসরি এই ডেপুটেশন জমা দেন। নাম বদলের পক্ষে যুক্তি দিয়ে চন্দ্রচূড় জানান, সমাজের প্রচলিত মিথ্যা নীতি-নৈতিকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবতাই যে মানুষের একমাত্র পরম পরিচয়— তা নিজের কালজয়ী সাহিত্যের মাধ্যমে বার বার ফুটিয়ে তুলেছিলেন শরৎচন্দ্র। পাশাপাশি তাঁর লেখনিতে জায়গা পেয়েছে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও শোষিত মানুষের জীবনযন্ত্রণা। তাই তাঁর এই অবদানকে সম্মান জনাতেই দেউলটি স্টেশনের নাম বদলে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় করা হোক বলে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
বলে রাখা ভালো, এই দেউলটি এলাকার সঙ্গে মিশে রয়েছে প্রখ্যাত সাহিত্যেকের ১২ বছর। সেখানেই রূপনারায়ণ নদীর তীরে একটি বাড়িতে জীবনের এক যুগ কাটিয়েছিলেন তিনি। রচনা করেছিলেন ‘দেনা-পাওনা’, ‘বিপ্রদাস’ এবং ‘শেষ প্রশ্ন’-এর মতো বিশ্বখ্যাত উপন্যাস। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে শরৎচন্দ্রের সেই বাসভবনটি সংরক্ষণ করা রয়েছে, যেখানে আজও তাঁর ব্যবহৃত নানা আসবাবপত্র রাখা আছে।