দেশজুড়ে এসআইআর বিতর্কের মাঝে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি রিপোর্টকে হাতিয়ার করে বিরোধীরা যে শোরগোল ফেলার চেষ্টা করছে, তা এক ছবিতেই মিথ্যা প্রমাণিত। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিন নির্বাচন কমিশনারের একসঙ্গে বৈঠকের ছবি তুলে ধরে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রসঙ্গত, ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, এসআইআর চলাকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, বাকি দুই কমিশনারকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। গত ১০ মাসে ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। এমনকী, ইআরও-দের অকেজো করে দিল্লি থেকে পোর্টাল নিয়ন্ত্রণ এবং ফর্মে নতুন প্রশ্ন যোগ করার অভিযোগও তোলা হয়, যার নিশানায় ছিলেন কমিশনের আইটি ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্না। এই রিপোর্ট সামনে আসতেই জ্ঞানেশের পদত্যাগ ও গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয় বিরোধীরা।
এই পরিস্থিতিতেই শনিবার তিন কমিশনার একসঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং নির্বাচন সদন সেই ছবি প্রকাশ করে। সেই ছবিকেই হাতিয়ার করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় যাঁদের হজম হচ্ছে না, তাঁরাই একটি প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে শোরগোল করছেন। এই ছবিই প্রমাণ করে এসআইআর কারও একার সিদ্ধান্ত নয়, তিন কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।”
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সিপিএমের ঘনিষ্ঠতাকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “ওরা বিপুলভাবে পরাজিত। নাম-নিশান মুছে গেছে। জনগণের রায় মানতে না পেরে এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেই তৃণমূলের জন্ম, যে সিপিএম ৩৪ বছর অত্যাচার করেছে, আজ সেই সিপিএমই ওদের বন্ধু।”
তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, “কংগ্রেস থেকে ঘাড়ধাক্কা খাওয়ার পর ১৯৯৮ সালে অটলজি মমতাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাই হয়েছিল সিপিএমের অবসানের জন্য। আর এখন তারাই হাত মিলিয়েছে। বিধানসভায় বিশ্ববিদ্যালয় বিলের সময় তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের একমাত্র বিধায়ক একসঙ্গে ভোট দিয়েছিল। সেদিনই ওদের আঁতাত আনুষ্ঠানিক হয়েছে।”
এসআইআর নিয়ে মমতার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আপনি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন। আদালত আপনার কথা শুনে বিচারকদের দায়িত্ব দিয়েছিল। ৬০ লক্ষের মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে বিচারকদের সিদ্ধান্তে। তারপরও হেরেছেন। এখন ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে আজাদি স্লোগান দিচ্ছেন। নির্বাচিত সরকারকে আক্রমণ করছেন, কমিশনকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছেন। আসলে আপনারা আতঙ্কিত, সন্ত্রস্ত।”
কেরল প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসকেও নিশানা করেন তিনি। বলেন, “কেরলে কংগ্রেস জিতেছে বলে সেখানে এসআইআর নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই, অথচ এখানে অভিযোগ। একই দলের দুই জায়গায় দু’রকম অবস্থান।”
শনিবার শ্রীরামপুরের কোর্ট মাঠে মমতার সভা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, “সভায় ১৫০ জন লোক ছিল, ১৭০ জন পুলিশ দিয়েছিলাম, ২০০ জন মিডিয়া ছিল। ৫০০ লোকও হয়নি।” এদিকে বিতর্কের মুখে কমিশন শনিবারই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্পষ্ট করেছে, বাদ পড়া নাম তোলা বা নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইআরও-রাই নেবেন।