নিজস্ব প্রতিনিধি : বাঁকুড়ায় আত্মসমর্পণ করতে চলেছেন নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র তিন শীর্ষ কমান্ডার। বুধবার বিকেল ৪টের সময় বাঁকুড়া পুলিশ কনফারেন্স হলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এডিজি পশ্চিমাঞ্চল-এর কাছে তাঁরা আত্মসমর্পণ করবেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন জবা মাহাতো ওরফে বুলু ও গোরি, নয়নতারা সাহু ওরফে মিতা ও ঝুমা এবং রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে মহাদেব ও সচিন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জবা মাহাতো ও নয়নতারা সাহু মাওবাদী সংগঠনের জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে রামপ্রসাদ মান্ডি ছিলেন বি.জি.ও অঞ্চলের রিজিওনাল কমিটির সদস্য।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনজনের বিরুদ্ধে মিলিয়ে ৭৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে। খুন, UAPA, Arms & Explosives Act-সহ বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আত্মসমর্পণের সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি INSAS রাইফেল, একটি AK-47, ১০টি ম্যাগাজিন এবং ১৫৪ রাউন্ড গুলি জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূমের বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের সক্রিয়তা ছিল। দীর্ঘদিনের পুলিশি অভিযানের পর রাজ্যের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির আওতায় তাঁরা আত্মসমর্পণ করছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই তিনজনের মধ্যে নয়নতারা সাহু ওরফে মিতার নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সঙ্গেও যোগ ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তিনি মাতঙ্গিনী মহিলা সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি মাওবাদী সংগঠনের সশস্ত্র স্কোয়াডে যোগ দেন এবং পরে জঙ্গলমহল এলাকায় জোনাল কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন।
অন্যদিকে, রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে সচিনের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর মামলার কথা জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে তাঁর মাথার দাম ১৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। লালগড় আন্দোলন থেকে শুরু করে শিলদা EFR ক্যাম্পে হামলার ঘটনাতেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। ২০১০ সালের শিলদা ক্যাম্প হামলায় বহু জওয়ান নিহত হয়েছিলেন এবং পরে ওই মামলায় একাধিক মাওবাদীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার সঙ্গেও সচিনের নাম জড়িয়ে থাকার দাবি রয়েছে। ২০১০ সালের ওই ঘটনায় ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে এই ঘটনার সঙ্গে নির্দিষ্টভাবে সচিনের ভূমিকা নিয়ে যে দাবি রয়েছে, সেটি পুলিশের অভিযোগ বা প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকা এই তিন শীর্ষ মাওবাদীর আত্মসমর্পণকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছে পুলিশ মহল। তাঁদের আত্মসমর্পণের ফলে জঙ্গলমহলে মাওবাদী সংগঠনের কার্যকলাপ আরও কমবে বলে আশা করছে প্রশাসন।