নিজস্ব প্রতিনিধি, বালুরঘাট: উৎসবের মরশুমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠল দক্ষিণ দিনাজপুরে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বালুরঘাটে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানালেন দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৯ অক্টোবর কুমারগঞ্জ থানায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে একটি মামলা রুজু করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস )এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন এর বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার কয়েকটি ফেসবুক পেজ থেকে পুরনো ভিডিও সম্পাদনা, ভিডিও বিকৃত করা এবং তার সঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য জুড়ে দিয়ে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, ওই সমস্ত পোস্টকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে টাকা দিয়ে পেড প্রমোশন বা ‘বুস্ট’ করার অভিযোগও সামনে এসেছে।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পিছনে একাধিক ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে বলে তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দেশের বাইরের কিছু জায়গা থেকেও এই কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-যোগ এবং এই সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের অনুমান, উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করা, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং ঘটনার পিছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম রেহান সরকার, সুমন রায় এবং সিদ্দিক মিয়া আলি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমারগঞ্জ ও গঙ্গারামপুর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলির পেড প্রমোশনের পিছনে কত টাকা খরচ করা হয়েছে, সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এই প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো প্রতিটি তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস বা প্রচার না করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।