নিজস্ব সংবাদদাতা : ফের বিস্ফোরণ ঘটালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, “মহুয়া মিত্রকে নিয়ে কিছু বলা মানে সময়ের অপচয়। তাঁর প্রতি ধ্যান দেওয়ার যোগ্যই নন তিনি”। এমন কি, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ‘বিলো স্ট্যান্ডার্ড’ বলে মন্তব্য করেন কল্যাণ।
তৃণমূলের চারবারের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের আরেক সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য তাঁকে লোকসভায় দলের মূখ্য সচেতক বা চীফ হুইপের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হল। তিনি নিজেও বলেছেন, এই মহুয়া মৈত্রর জন্য তিনি দলের কয়েকজনের কাছে খারাপ হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই মহিলা আমার বিষয়বস্তু নন। বিলো স্ট্যান্ডার্ড। তাঁকে নিয়ে আলোচনা করার কোনও মানে হয় না। তাঁর কারণে আমি অনেকের কাছে খারাপ হয়ে গেছি”। তিনি আরও বলেন, “সময়ের অপচয়, আমি আমার শক্তি নষ্ট করেছি। সে আমার মনোযোগের যোগ্য নয়। এটা আমার ভুল ছিল যে আমি তাকে মনোযোগ দিয়েছিলাম”।
তিনি একজন জুনিয়র অ্যাডভোকেটকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন যিনি দুই তৃণমূল সাংসদের মধ্যে চলতি বিরোধের বিষয়ে তাঁকে বুঝিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। “আমার একজন জুনিয়র অ্যাডভোকেট ভাই আছেন। তিনি আমাকে টেক্সট করেছিলেন। আমি এতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম এবং বুঝতে পেরেছিলাম যে মহুয়া মৈত্র আর আমার বিষয়বস্তু নয়। আমার এখন অনেক কাজ করার আছে”।
কৃষ্ণনগরের লোকসভা সাংসদ মিসেস মৈত্রের সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চলতি বাকবিতণ্ডা নিয়ে বারবার অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল। উভয়েই একে অপরকে গালিগালাজ এবং নাগরিক আলোচনার মৌলিক নিয়ম অবজ্ঞা করার অভিযোগ করেছেন। তিনি অবশ্য দলনেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, “আমি দিদির বিরুদ্ধেও কথা বলেছি। আমার মনে হয় আমি যদি এটি না বলতাম তবে ভালো হত”। তবে কল্যাণ বলেছেন, “রাখিতে দিদি আমাকে আশীর্বাদ করেছেন। একবার নয়, তিনবার”।
৪ জুলাই, লোকসভায় তৃণমূলের চীফ হুইপ পদ থেকে পদত্যাগ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন যে, সংসদে কিছু সাংসদ উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও, তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের জন্য তাঁকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, একজন সহকর্মী সাংসদ অপমান করল অথচ তাতে দল নীরব থাকল। এটা তাঁকে গভীর ভাবে আহত করেছে। তিনি যে ওই সহকর্মী বলতে মহুয়া মৈত্রকে ইঙ্গিত করলেন সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। মমতার নেত্রীত্বে তৃণমূল সাংসদদের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের কয়েক ঘন্টা পরেই কল্যান চীফ হুইপ পদ থকে পদত্যেগের সিদ্ধান্ত নেন। কারণ ওই বৈঠকে দলনেত্রী তৃণমূলের সংসদীয় শাখায় দুর্বল সমন্বয়ের জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তিনি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বলেছিলেন যে তাকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।
