বীরভূম, নিজস্ব সংবাদদাতা: লাভপুরে রাতারাতি রং বদলে গেল সরকারি সম্পত্তির, উঠছে শাসকদলের দখলদারির অভিযোগ সরকার বলে জনগণের জন্য উন্নয়ন। অথচ বাস্তবে সেই উন্নয়নের ফল ভোগ করছে শাসকদল! বীরভূমের লাভপুরে সরকারি টাকায় তৈরি যাত্রী প্রতীক্ষালয় রাতারাতি বদলে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে—এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তাল এলাকা।
লাভপুর থেকে বোলপুর যাওয়ার রাজ্য সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত বাস চলাচল করে। গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষ—শ্রমিক, পড়ুয়া, মহিলা, বয়স্ক—বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তাঁদের সামান্য স্বস্তির জন্যই সরকারি তহবিল খরচ করে তৈরি করা হয়েছিল দুটি যাত্রী প্রতীক্ষালয়। কিন্তু সেই সরকারি সুবিধাই এখন কার্যত শাসকদলের দখলে!
অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে বিপ্রটিকুরি অঞ্চলের তাঁতবান্দী বাসস্ট্যান্ড ও বিপ্রটিকুরি বাসস্ট্যান্ডে সরকারি অর্থে নির্মিত হয় যাত্রী প্রতীক্ষালয়। অথচ নতুন বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ২০২৬, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে যাত্রীদের জন্য তৈরি সেই প্রতীক্ষালয় দুটিকেই রীতিমতো দলীয় কার্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। শুধু তাই নয়—ফিতে কেটে ঘটা করে উদ্বোধনও করা হয়েছে বলে অভিযোগ!
বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, লাভপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী এবং বিপ্রটিকুরি অঞ্চল সভাপতি শেখ ইসমাইল এই বেআইনি দখলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সরকারি সম্পত্তিকে শাসকদলের পার্টি অফিসে বদলে ফেলা কি আদৌ আইনসিদ্ধ? প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির থেকে সাধারণ মানুষও।
স্থানীয় বাসযাত্রীরা বলছেন, “প্রতীক্ষালয় ছিল বলে রোদ-বৃষ্টিতে একটু বাঁচা যেত। এখন সেখানে ঢুকলেই রাজনৈতিক পোস্টার, ব্যানার, দলীয় লোকজনের আড্ডা। সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?”
সরকারি টাকায় তৈরি পরিকাঠামো যদি শাসকদলের দপ্তরে পরিণত হয়, তবে প্রশাসনের ভূমিকা কী? নাকি প্রশাসনের নীরব সম্মতিতেই চলছে এই দখলদারি—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে লাভপুর জুড়ে। যদিও বিষয়টি নিয়ে লাভপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী দাবি করেন, “আমরা খবর পেয়েছি। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। প্রশাসনই তদন্ত করুক। আমিও দলীয় ভাবে বিষয়টি দেখছি।” কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় যে, উদ্বোধনে ফিতে কাটা হলো, পোস্টার লাগানো হলো, সেই সময় প্রশাসনের চোখে কি কিছুই পড়েনি?
এদিকে লিখিত অভিযোগ পেয়ে লাভপুরের বিডিও শিশুতোষ প্রামানিক জানিয়েছেন,“অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।” তবে তদন্তের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয় এলাকাবাসী। তাঁদের প্রশ্ন সরকারি যাত্রী প্রতীক্ষালয় কি শাসকদলের সম্পত্তি?উন্নয়নের নামে সরকারি টাকা খরচ করে পার্টি অফিস বানানোই কি এখন নতুন রীতি? প্রশাসন কি শুধুই দর্শক হয়ে থাকবে?
লাভপুরের এই ঘটনা ফের একবার রাজ্যে শাসকদলের ‘দখল সংস্কৃতি’ এবং সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহারের অভিযোগকে সামনে এনে দিল। তদন্তে কী উঠে আসে, নাকি সবই চাপা পড়ে যায় সেদিকেই এখন তাকিয়ে বীরভূমবাসী।
