নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের শেষ শহিদ দিবস উদ্যাপন ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই ব্যস্ত কলকাতা। এবারও ধর্মতলায় মঞ্চ বসেছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এই সমাবেশ ঘিরে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা কলকাতায় পৌঁছেছেন রবিবার রাত থেকেই। হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে সোমবার সকাল থেকেই সেই ভিড় চোখে পড়েছে স্পষ্টভাবে। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কলকাতার ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট ভাল ছিল বলে আদালত স্বীকার করেছে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ পুলিশের কাজের প্রশংসা করে জানান, “পুলিশ ভাল কাজ করেছে, যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলেছে।” এক আইনজীবী জানান, নিউ আলিপুর থেকে হাই কোর্টে আসতে সাধারণত যত সময় লাগে, সোমবারও ঠিক ততটাই সময় লেগেছে।
স্টেশন চত্বর থেকে রাজপথ সর্বত্রই তৃণমূলের ফ্লেক্স, পোস্টার আর নেতাদের বড় কাট-আউট। ধর্মতলায় মঞ্চের কাছে রাত ১২টা-১টা থেকেই বহু সমর্থক বসে ছিলেন। অনেকেই রাস্তাতেই রাত কাটিয়ে সোমবারের সমাবেশের জন্য অপেক্ষা করেছেন। তবে সমাবেশ ঘিরে যেন শহরের স্বাভাবিক জনজীবনে ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য আগেভাগেই কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের নির্দেশ অনুযায়ী, সকাল ৮টা পর্যন্ত মিছিল করা যাবে, আর সকাল ৯টার মধ্যে মিছিল যেখানে থাকবে, সেখানেই সেটেল করতে হবে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শহরের ৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে যানজট পুরোপুরি এড়াতে হবে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে নির্দেশ দেন বিচারপতি ঘোষ।
পুলিশ সেই নির্দেশ মেনে সোমবার সকাল থেকেই মধ্য কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছে। বিকল্প রুট ঘোষণা করা হয়েছে আগেই। ধর্মতলা, রাজভবন চত্বর, মা উড়ালপুলের দিকের রাস্তা, শেক্সপিয়ার সরণি সব জায়গাতেই মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। ব্যারিকেড করে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক রাস্তায়। ফলে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্তও শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো তুলনামূলকভাবে যানজটমুক্ত ছিল।
যদিও বাসের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। ফলে যে ক’টি বাস চলছে, তাতে উপচে পড়েছে যাত্রী। মেট্রো রেলই ভরসা বহু নিত্যযাত্রীর। সকাল থেকে মেট্রোতেও তীব্র ভিড়। যাঁরা বাসে উঠতে পারছেন না, তাঁরা হেঁটেই পাড়ি দিচ্ছেন ধর্মতলার দিকে। শিয়ালদহ থেকে মৌলালি হয়ে ধর্মতলা পর্যন্ত রাস্তার ধারে ব্যারিকেড করে রাখা হয়েছে। সেখানে তৃণমূল কর্মীরা রাস্তাতেই রান্নার ব্যবস্থা করেছেন। মল্লিকবাজার থেকে মৌলালি পর্যন্ত রাস্তায় এমন চিত্র দেখা গিয়েছে।
শিয়ালদহ থেকে শ্যামবাজারের দিকে বড় কোনও যানজট না থাকলেও শিয়ালদহ-মৌলালি রাস্তায় যান চলাচল কিছুটা থমকে থমকে হচ্ছে। বিশেষ করে মৌলালির ধারে প্রচুর তৃণমূল কর্মী-সমর্থক জমায়েত হওয়ায় গাড়ি থামিয়ে থামিয়ে ছাড়া হচ্ছে। পুলিশ এক বার গাড়ি ছাড়ছে, এক বার লোকজনের জমায়েত সামলাচ্ছে। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে তৃণমূলের সাহায্য-ক্যাম্প থেকেও ঘোষণা করা হচ্ছে।
