নিজস্ব সংবাদদাতা : টানা দুদিনের চেষ্টার পর অবশেষে স্বাভাবিক হওয়ার পথে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া রেলপথে নতুন ট্র্যাক বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে ট্র্যাক ব্যালেন্সিংয়ের কাজ।
রেল আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, জেনারেল ম্যানেজারের নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল গত দুদিন ধরে দিন-রাত এক করে কাজ করেছে। দুই রাত জেগে রেলকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামত করে নতুন ট্র্যাক বসিয়েছেন।
তিনি বলেন, শনিবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে হাওড়া থেকে শতাব্দী এক্সপ্রেস ছাড়বে এবং ট্রেনটি নিজের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী চলবে। বিকেল ৪টে নাগাদ সংশ্লিষ্ট লাইনের ‘ফিট সার্টিফিকেট’ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রেল সূত্রে জানা SMVT বেঙ্গালুরু সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ নতুন তৈরি হওয়া ওই লাইন দিয়ে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন হিসেবে পাস করবে।
শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, আপ লাইনের পরিষেবা শনিবার থেকেই স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ডাউন লাইনের পরিষেবাও দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে। নতুন বসানো ট্র্যাকের ওই অংশে ট্রেন স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। তবে নতুন ট্র্যাকের প্রায় ১০০ মিটার আগে ট্রেন দু মিনিটের জন্য দাঁড়াবে। এরপর সিগন্যাল পাওয়ার পর স্বাভাবিক গতিতে ওই অংশ অতিক্রম করবে ট্রেন।
তিনি আরও জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপ ও ডাউন—দুই দিকের পরিষেবাই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রেলের বাকি ট্র্যাকগুলিরও পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
এদিকে, এই পরিস্থিতির জেরে যেসব ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল, সেই সমস্ত ট্রেনের যাত্রীরা টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত পাবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। দুদিনের দুর্ভোগের পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার খবরে স্বস্তি ফিরছে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের মধ্যে।