ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে এস আই আর চালুর কথা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। চলতি বছরের নম্ভেম্বর মাসের শুরুতেই বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে, সোমবার সেই ঘোষোণা করেছেন স্বয়ং কমিশনের মুখপাত্র জ্ঞানেশ কুমার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে তিনি একপ্রকার বাংলার শাসক দলকে সাবধান করেছেন। এই ঘোষণার পর তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এর মধ্যেই রাজ্যে এনআরসি আতঙ্কে দুই দিনে দুই ব্যক্তির মৃত্যু এই আবহকে আরও উত্তেজক করে তুলেছে।
গত ২৮ তারিখ, উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যুকে ঘিরে ব্যপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মৃতের নাম প্রদীপ কর। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআাআর প্রক্রিয়ার আতঙ্কেই এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগরপাড়ার বাসিন্দা প্রদীপবাবু নিজ ফ্ল্যাটের ভিতর ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হন। ঘটনাস্থল থেকেই একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে, যার এক পাতায় ‘এনআরসি’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে একটি আত্মহত্যার নোট পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী পুলিশ। সেই নোটের লেখাটি আদৌ প্রদীপবাবুর হাতের লেখা কি না, তা যাচাই করতে ফরেনসিক পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর মৃতের ভাইয়ের স্ত্রী খড়দহ থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে, প্রদীপবাবু মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন, তাঁর ডান হাতের আঙুলও নাকি আংশিক কাটা ছিল। ফলে ওই নোটটি তিনি নিজে লিখতে পেরেছিলেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। শাসক দল দাবি করেছে, এসআাআর বা নাগরিকপঞ্জি সংক্রান্ত আতঙ্কের জেরেই মানসিক চাপে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন প্রদীপবাবু। বিরোধী শিবির অবশ্য এই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ যাচাই না করে এমন অভিযোগ তোলা ঠিক নয়। বুধবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আগরপাড়ায় প্রদীপ করের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, একই দিনে বীরভূমের ইলামবাজার এলাকায় এক প্রবীণ ব্যক্তির মৃত্যুতেও উঠেছে এসআাআর এর ভয় ঘিরে প্রশ্ন। মৃতের নাম ক্ষিতীশ মজুমদার, বয়স প্রায় পঁচানব্বই বছর। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আতঙ্কে ছিলেন যে ২০০২ সালের প্রকাশিত ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনে তাঁর নাম তালিকাভুক্ত না থাকায় তিনি হয়তো ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন, কিংবা ভবিষ্যতে তাঁকে ‘বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। এই ভয়েই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। ক্ষিতীশবাবু মূলত পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা হলেও কিছুদিন ধরে আত্মীয়ের বাড়িতে ইলামবাজারে থাকতেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনও আত্মহত্যার নোট পাওয়া যায়নি এবং এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়নি। তবু ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
একই দিনে রাজ্যের দুটি প্রান্তে এমন দুই মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে শাসক শিবির দাবি করছে, এসআাআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বিরোধীদের মতে, রাজ্য সরকার অযথা এই ঘটনাগুলিকে রাজনৈতিক রঙ দিচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
