ওঙ্কার ডেস্ক: ২৮ জুন, শুক্রবার কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে উদ্বোধন হয়েছে ‘উদ্যমী সম্মেলন মেলা ২০২৫’। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও আইন ও বিচার দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অর্জুন রাম মেঘাওয়াল এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। লঘু উদ্যোগ ভারতী আয়োজিত এই মেলার মূল উদ্দেশ্য, দেশের অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের বিকাশ, ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ সহজতর করা এবং শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতি ও পরিকাঠামো নিয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনার মাধ্যমে উদ্যোগীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পূর্বাঞ্চলের নীতি-নির্ধারক, শিল্পপতি, আইন বিশেষজ্ঞ এবং উদ্যোগীরা এই সম্মেলনে একত্রিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব স্পষ্ট জানান, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে রেলব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বর্তমান কেন্দ্র সরকার রেলের বাজেটকে সাধারণ বাজেটের সঙ্গে যুক্ত করে রেল খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের নজির গড়েছে। আগের সরকারের সময়ে যেখানে রেলের বাজেট বরাদ্দ ছিল ২৪ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা, সেখানে মোদী সরকারের আমলে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা। গত ১১ বছরে প্রায় ৩৫,০০০ কিমি নতুন রেললাইন পাতা হয়েছে, শুধু ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে পাতা হয়েছে ৫,৩০০ কিমি রেললাইন।
পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি জানান, নিউ জলপাইগুড়ি-কলকাতা রেল করিডরকে আরও উন্নত মানের করে গড়ে তোলার পাশাপাশি ‘চিকেন নেক’ অংশে দুই লাইনের পরিবর্তে চার লাইনের নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেবক-শিলিগুড়ি-নিউ মাল জংশনও মূল করিডোরের সঙ্গে যুক্ত হবে। আগে যেখানে পশ্চিমবঙ্গের রেল বাজেট থাকত ৩,০০০ কোটি টাকার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪,০০০ কোটি টাকা। এই বিপুল বিনিয়োগের ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্পক্ষেত্রের প্রসার ঘটবে বলেই আশাবাদী তিনি।
রেলমন্ত্রী ভারতের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন। ঔপনিবেশিক শাসন ও স্বাধীনোত্তর দেশের শিল্পক্ষেত্রকে পিছিয়ে দিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকার আজ অর্থনীতিকে নতুন দিশা দিতে নিয়ম-নীতি সরল করছে এবং ব্যবসার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে জোর দিচ্ছে। আইনমন্ত্রী শ্রী অর্জুন রাম মেঘাওয়াল তাঁর বক্তব্যে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি AI-কে স্টিম ইঞ্জিন বা কম্পিউটার আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এর সঙ্গে যুক্ত সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ দুটোই সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া শিলিগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের স্থায়ী সার্কিট বেঞ্চ স্থাপন নিয়েও সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান।
সম্মেলনে ন্যাশনাল স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের শ্রী শুভ্রাংশু শেখর আচার্য, পদ্মশ্রী সজ্জন ভজংকা, শ্রী প্রকাশ চন্দ্র-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে স্থাপিত লঘু উদ্যোগ ভারতী অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগকে সহায়তার লক্ষ্যে কাজ করে। কলকাতার এই দুদিনের মেলায় উদ্যোগী ও নীতি নির্ধারকেরা শিল্পের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করবেন।
