ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে নৃশংসভাবে খুন হলেন এক সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিভিল লাইনস এলাকার একটি হোটেলের সামনে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। নিহত সাংবাদিকের নাম লক্ষ্মী নারায়ণ সিং, বয়স ৫৪ বছর। স্থানীয় মহলে তিনি ‘পাপ্পু’ নামেই পরিচিত ছিলেন।
সূত্রের খবর, সন্ধ্যার দিকে তিনি হর্ষ নামের একটি হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই সময়ই হঠাৎ কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয় তাঁর শরীরে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে স্বরূপ রানি নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিশাল নামের এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলাকালীন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে সে। এছাড়া আরও দুই অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত সাংবাদিক সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং কিছু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, পেশাগত কারণেই এই খুনের ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও এখনো পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়নি।
লক্ষ্মী নারায়ণ সিং প্রয়াগরাজ হাই কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রাক্তন সভাপতির ভাইপো বলেও জানা গিয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোরতম শাস্তি চান তারা। ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশ আধিকারিকরা আশ্বাস দিয়েছেন, খুব শিগগিরই তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে সাংবাদিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে হত্যার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বিগত কয়েকমাস যাবৎ দেশে সাংবাদিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
