ওঙ্কার ডেস্ক : এবার থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পরিচালনা করবে, নিঃসন্দেহে যা বিশ্বের সেরা ফাইটার হেলিকপ্টারগুলির মধ্যে একটি। ভারতীয় সেনাবাহিনী এমন তিনটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রথম ব্যাচ পেয়েছে যা তাদের আক্রমণাত্মক এবং অপারেশনাল ক্ষমতা ভীষণ ভাবে বাড়াবে। মরুভূমির ছদ্মবেশে রঙ করা অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারগুলি মঙ্গলবার বিকেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি আন্তোনভ পরিবহন বিমানে হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে।
ভারতীয় বিমান বাহিনী ইতিমধ্যেই ২২টি ভারী আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার পরিচালনা করে। “বাতাসে ট্যাঙ্ক” নামে পরিচিত এই নতুন হেলিকপ্টারগুলি পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তের কাছে যোধপুরে মোতায়েন করা হবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনির তরফে জানান হয়েছে, “আর্মি এভিয়েশনের জন্য অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রথম ব্যাচ এদিন ভারতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য একটি মাইলফলক মুহূর্ত তৈরি হল। এই অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্মগুলি ভারটিয় সেনাবাহিনীর অপারেশনাল ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে”।
বোয়িং-নির্মিত হেলিকপ্টারগুলি এখন গ্রহণযোগ্যতার একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে যার মধ্যে বিভিন্ন পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই তিনটি হেলিকপ্টার ৬০০ মিলিয়ন ডলারের ছয়টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কেনার চুক্তির অংশ, যা ২০২০ সালে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির অধীনে, তিনটি হেলিকপ্টারের প্রথম ব্যাচ ২০২৪ সালের মে-জুন মাসে আসার কথা ছিল, কিন্তু সরবরাহ লাইনের ব্যাঘাত এবং ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাবলীর কারণে সরবরাহ স্থগিত রাখা হয়েছিল। ভারতীয় বিমান বাহিনীর ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবের পাঠানকোট এবং অসমের জোরহাটে দুটি সক্রিয় অ্যাপাচি স্কোয়াড্রন রয়েছে।
অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলি আক্রমণের উদ্দেশ্যে এবং নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং শান্তি অভিযানের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলি অত্যাধুনিক টার্গেটিং সিস্টেম দিয়ে সজ্জিত যা সমস্ত আবহাওয়ায় লক্ষ্যবস্তুর সঠিক তথ্য সরবরাহ করে। হেলিকপ্টারগুলি নাইট ভিশন নেভিগেশন সিস্টেম দিয়ে সজ্জিত এবং সর্বশেষ যোগাযোগ, নেভিগেশন, সেন্সর এবং অস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে।
চিন ও পাকিস্তানকে নজরে রেখে ২০২০ সালে ছটি অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই হেলিকপ্টার কেনার জন্য মার্কিন সংস্থা বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় ভারতীয়সেনা। প্রায় ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকার ওই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের মে বা জুনেই প্রথম ব্যাচের তিনটি কপ্টার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানান কারণে সময় পিছোতে থাকে।
প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেই অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টারগুলি ভারতের হাতে তুলে দিতে দেরি হচ্ছে বলে জানায় আমেরিকা। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে পাক সীমান্তের নিরাপত্তায় অনেক বেশি কড়াকড়ি করছে ভারতীয় সেনা। সেজন্যই প্রথম ব্যাচের অ্যাপাচেগুলি পাক সীমান্তে পাঠানো হবে বলে ঠিক হয়। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বিমান চালক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা অ্যাপাচের প্রশিক্ষণ নিয়ে অভিযানের জন্য প্রস্তুতি সেরে ফেলে।
বিশ্বে মোট ১৭টি দেশ এই কপ্টার ব্যবহার করে। একসঙ্গে বহুমুখী কাজ করতে পারে কপ্টারগুলো। ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে এ৩ই মুহূর্তে রয়েছে ২২টি অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার। এর মধ্যে ১১টিতে রয়েছে শত্রু শিবিরে বিভীষিকা তৈরি করা লং বো ফায়ার কন্ট্রোল রাডার। রয়েছে হেলফায়ার (নরকের আগুন) মিসাইল। প্রতিপক্ষের ট্যাঙ্ক ধ্বংসে এর জুড়ি মেলা ভার। তাই অ্যাপাচে হেলিকপ্টারগুলোকে ‘ট্যাঙ্ক কিলার’ নাম দেওয়া হয়েছে। প্রায় অভেদ্য বর্মের জন্য ‘উড়ন্ত ট্যাঙ্ক’ হিসাবেও ধরা হয় অ্যাপাচেকে।
ভারতের হাতে এই চপার এসে আসায়য় সেনাবাহিনী অনেক বেশি শক্তিশালী হল বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তানকে কিছুদিন আগেই নাস্তানাবুদ করেছে ভারত। এরপর সীমান্তে এই হেলিকপ্টার মোতায়েন হওয়ায় পাকিস্তানের কাছে নিঃসন্দেহে বাড়তি চাপ।
পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর ভারতের অপারেশন সিঁদুরের ঠেলা পাকিস্তান এখনও সামলে উঠতে পারেনি। সেখান থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এই অস্ত্র চলে আসায় পাকিস্তানের দুর্ভাবনা বাড়ল। এই চপার যেকোনও অবস্থায় শত্রুকে শেষ করে দিতে পটু। ফলে সীমান্তে নজরদারীতে ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও কঠোর এবং শক্তিশালী হবে।
