ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মার্কিন সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ইতিমধ্যেই। মাত্র দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার আমেরিকা সফরে এসে মুনির সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দেন এবং দাবি করেন, এমন হামলায় ‘অর্ধেক বিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাবে’। আর এই প্রকাশ্য হুমকি নিয়েই তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি। এই আবহে ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সুষ্ট আছে বলেই দাবি আমেরিকার।
মার্কিন বিদেশ দফতরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য পুনরায় উল্লেখ করে বলেন, সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের সময় ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্ভব হয়েছিল। সেটিকে তিনি “অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত” বলে অভিহিত করেন। ব্রুস জানান, “পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যে সংঘাত তৈরি হয়েছিল, তা ভয়াবহ আকার নিতে পারত। তৎক্ষণাৎ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি আরও বলেন, “যেভাবে ফোনালাপ ও আলোচনার মাধ্যমে আক্রমণ থামিয়ে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনা হয়েছিল, তা স্থায়ী শান্তির ভিত্তি তৈরি করেছে। এটি মার্কিন কূটনীতির এক বড় সাফল্য”।
মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর পাকিস্তানকে অতিরিক্ত সহায়তা বা অস্ত্র বিক্রি বাড়ানোর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ব্রুস স্পষ্ট জানান, “ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের সঙ্গেই মার্কিন সম্পর্ক অপরিবর্তিত এবং ইতিবাচক। আমাদের কূটনীতিকরা উভয় দেশের প্রতিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ব্রুস আরও জানান, মঙ্গলবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ মার্কিন-পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী সংলাপে উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করার অঙ্গীকার করেছে। সন্ত্রাস দমন ও প্রতিরোধে সহযোগিতা বাড়ানোর পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, “অঞ্চলের জন্য এবং বিশ্বের জন্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করা ইতিবাচক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে”।
উল্লেখযোগ্য, জুন মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈশভোজের পর এটি মুনিরের দ্বিতীয় মার্কিন সফর। রবিবার তিনি ওয়াশিংটনে পৌঁছে মার্কিন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু করেন।
