ওঙ্কার ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি সংক্রান্ত ঘোষণায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ‘তৃতীয়-বিশ্ব’ বলে পরিচিত দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
ওয়াশিংটন ডিসির কাছে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের উপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমেরিকায় অবৈধ প্রবেশ কিংবা শরণার্থী সেজে ঢোকার ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ঠেকাতেই অভিবাসন নীতি কঠোর করা হচ্ছে।
যদিও ট্রাম্প কোনও দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে আন্তর্জাতিক সূচকে ‘তৃতীয়-বিশ্ব’ দেশগুলির তালিকায় যে দেশগুলি চিহ্নিত, বিশেষজ্ঞদের মতে সেসব দেশের নাগরিকই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন। আফগানিস্তান, মায়ানমার, কঙ্গো, কিউবা, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সুদান, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন। এই দেশগুলি থেকে আমেরিকায় অভিবাসন বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তালিকাভুক্ত অনেক দেশেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহযুদ্ধ, দারিদ্র্য, জঙ্গি কার্যকলাপ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো পরিস্থিতি রয়েছে। সেই কারণে বহু মানুষ নিরাপত্তা, চিকিৎসা, কাজের সুযোগ কিংবা পরিবারকে বাঁচানোর লক্ষ্যে আমেরিকায় আশ্রয় নিতে চাইতেন। নতুন নীতিতে তাদের ভবিষ্যৎ এক ধাক্কায় অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। অভিবাসন আইনজীবীরাও বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী নীতির উপর গভীর প্রভাব পড়বে এবং মানবিক সংকট আরও জটিল হয়ে উঠবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের যুক্তি, কয়েকজন অপরাধীর কারণে পুরো একটি দেশের জনগণকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে ‘তৃতীয়-বিশ্ব’ শব্দবন্ধটি আদৌ ন্যায্য কি না। সমালোচকদের মতে, এটি একটি পুরনো ও বৈষম্যমূলক শ্রেণিবিভাগ, যার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ জাতিগোষ্ঠীর উপর অভিবাসন নিষেধাজ্ঞা চাপানো যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থকরা দাবি করছেন, আমেরিকার নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দেশ থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হয়, সেখান থেকে প্রবেশ আগে থেকেই সীমিত করা উচিত ছিল। তাঁদের মতে, এই নীতি দেশকে সুরক্ষিত রাখার এক কার্যকর উপায়।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যে দেশগুলিকে প্রভাবিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসছে। অনেকেই এটিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক আচরণ বলে অভিহিত করছেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর আমেরিকায় থাকা বহু অভিবাসী পরিবারও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক অভিবাসন নীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের পথে বিশ্ব এগোবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর রয়েছে, প্রশাসন কীভাবে এই নীতি কার্যকর করে এবং এর বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ ওঠে কি না।
