ওঙ্কার ডেস্ক : দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ভারত প্রয়োজনীয় সব রকমের পদক্ষেপ করবে। ভারতীয় পণ্যের উপর বাণিজ্য শুল্ক ও জরিমানা ঘোষণার পর এই বিবৃতি দিল মোদী সরকার। তার আগে মার্কিন মুলুকে ভারতের রপ্তানি পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং জরিমানা ঘোষণা করে ট্রাম বুঝিয়ে দিলেন তাঁর মতো ব্যবসায়ীর কাছে বন্ধুত্বের কোনো ছাড় নেই। যদিও দিল্লি জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে একটি ন্যায্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে কয়েক মাস ধরে। ভারতের দেওয়া প্রস্তাবগুলি ওয়াশিংটন খতিয়ে দেখছে বলে কেন্দ্রর তরফে জানান হয়েছে।
ট্রাম্পের আক্ষরিক অর্থে এই শুল্ক-মিসাইল ছোঁড়ার জবাবে একটা পরিমিত বিবৃতিতে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এই ঘোষণার বিষয়টি লক্ষ্য করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ন্যায্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা জানিয়েছে, “দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি বিবৃতি সরকার লক্ষ্য করেছে। সরকার এর প্রভাবগুলি খতিয়ে দেখছে। ভারত ও আমেরিকা গত কয়েক মাস ধরে একটি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিকভাবে উপকার হবে এমন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি তৈরির জন্য আলোচনায় রয়েছে। আমরা সেই লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।
এই আলোচনায় কৃষক, উদ্যোক্তা এবং এমএসএমই (মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ) এর কল্যাণ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার উপর জোর দিয়েছে দুই দেশ। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “সরকার আমাদের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যেমনটি ব্রিটেনের সঙ্গে বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি সহ অন্যান্য বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে হয়েছে”।
এর আগে ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে লিখেছিলেন, “২৫% শুল্ক ছাড়াও, ভারতকে জরিমানা আরোপ করা হবে কারণ যারা ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত সেই রাশিয়া রাশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল কেনে”। ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্ক টারিফে জরিমানার পরিমাণ নির্দিষ্ট না করে ভারতের সামরিক ক্রয়ের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন।
এই সমস্ত ঘোষণা করার সময়, তিনি বলেছিলেন যে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু এবং “এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার” জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানাতেও তিনি স্মরণ করেন। তিনি লিখেছেন, “মনে রাখবেন, ভারত আমাদের বন্ধু হলেও, আমরা বছরের পর বছর ধরে তাদের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে খুব কম ব্যবসা করেছি কারণ তাদের শুল্ক অনেক বেশি, বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ, এবং তাদের কাছে সবচেয়ে কঠোর এবং বিরক্তিকর অ-আর্থিক বাণিজ্য বাধা রয়েছে। এছাড়াও, তারা সর্বদা রাশিয়া থেকে তাদের সামরিক সরঞ্জামের একটি বিশাল অংশ কিনেছে এবং চিনের সঙ্গে রাশিয়ার শক্তির বৃহত্তম ক্রেতা। এবং এটা এমন এক সময়ে যখন সবাই চায় রাশিয়া ইউক্রেনে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করুক – সবকিছুই ভালো নয়!” তাই ট্রাম্পের সাফ কথা, “ভারত তাই ২৫% শুল্ক দেবে এবং উপরোক্ত জন্য আগস্ট থেকে শুরু করে একটি জরিমানা দিতে হবে”। একই সঙ্গে হুমকির সুরে তিনি লিখেছেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি আছে !!!”
গত কয়েকদিন ধরে, সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সহ মার্কিন রাজনীতিবিদরা হুমকি দিয়ে আসছেন যে রাশিয়া থেকে তেল কিনবে এমন দেশগুলিকে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। গ্রাহাম সতর্ক করে দিয়েছিলেন, চীন, ভারত এবং ব্রাজিলকে আমি যা বলব তা হল : যদি তোমরা এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সস্তা রাশিয়ান তেল কিনতে থাকো, তাহলে আমরা তোমাদের ধ্বংস করে দেব এবং তোমাদের অর্থনীতিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেব”।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বারবার বলেছেন, “ভারত তার এবং তার নাগরিকদের স্বার্থকে প্রথমে রাখবে এবং যে দেশই সবচেয়ে ভালো দাম দেবে সেখান থেকে তেল কিনবে”। এই সপ্তাহের শুরুতে, আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীও রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনার বিষয়ে এক প্রশ্নের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ‘জ্বালানি সম্পর্ক’ রয়েছে। তেল বিতর্কের সূত্র ধরে দোরাইস্বামী জানিয়েছিলেন, “আমরা আগে যে উৎস থেকে জ্বালানি কিনতাম সেখান থেকে অন্য সবাই জ্বালানি কেনার ফলে আমরা মূলত জ্বালানি বাজার থেকে বিতাড়িত হয়েছি, এবং খরচ বেড়েছে। আমরা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি ভোক্তা। আমরা আমাদের পণ্যের ৮০ শতাংশেরও বেশি তেল আমদানি করি। আপনি আমাদের কি করতে বলবেন ? আমাদের অর্থনীতি বন্ধ করে দিন ?” ফলে ভারতের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্ক আরোপ আগামী দিনে দু দেশের মধ্যে যে একটা টানাপোড়েন তৈরি করতে চলেছে তা উভয় দেশের বাকযুদ্ধেই প্রকাশ পাচ্ছে।
