ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠার আবহে শক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিতবাহী একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এলজিএম-৩০ মিনিটম্যান ৩-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এই ক্ষেপণাস্ত্রকে অনেক সময়ই “ডুমসডে মিসাইল” বলা হয়, কারণ এর বিধ্বংসী ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি এবং প্রয়োজনে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করে দূরপাল্লায় আঘাত হানতে পারে। এর থেকেই অনেকে মন একছে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলা চালনোর কথা কি ভাবছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ক্যালিফোর্নিয়ার ভান্দেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। পরীক্ষামূলক এই উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কোনও পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল না। উৎক্ষেপণের পর এটি প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে নির্ধারিত পরীক্ষামূলক লক্ষ্যস্থলের দিকে এগিয়ে যায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা, নির্ভুলতা এবং প্রস্তুতির মান যাচাই করা।
এই পরীক্ষা এমন এক সময়ে করা হল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইরান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। যদিও মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন করে শুরু হওয়া কোনও সামরিক অভিযানের অংশ নয়। বহুদিন আগেই এই পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারিত ছিল এবং নিয়মিত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এটি করা হয়েছে।
মিনিটম্যান ৩ হল যুক্তরাষ্ট্রের স্থলভিত্তিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত উচ্চ গতিতে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছতে পারে। প্রয়োজনে এতে শক্তিশালী পারমাণবিক ওয়ারহেড সংযুক্ত করা যায়। ফলে এটি মার্কিন পারমাণবিক প্রতিরোধ কৌশলের একটি অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরীক্ষা মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বজায় রাখতে নিয়মিত এই ধরনের পরীক্ষা চালিয়ে থাকে মার্কিন সেনাবাহিনী।
তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই পরীক্ষাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যখন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে, তখন পারমাণবিক সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক বিশ্লেষক।
