ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা UTI হলো মূত্রনালির সংক্রমণ, যা সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। মূত্রথলি ও মূত্রনালিতে সংক্রমণ বেশি দেখা গেলেও কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। নারী-পুরুষ উভয়েরই UTI হতে পারে, তবে নারীদের মূত্রনালি তুলনামূলক ছোট হওয়ায় তাদের ঝুঁকি বেশি।
কেন ইউরিন ইনফেকশন হয়?
UTI-এর প্রধান কারণ হলো ব্যাকটেরিয়া, বিশেষ করে অন্ত্রে স্বাভাবিকভাবে থাকা E. coli মূত্রনালিতে প্রবেশ করা। অপর্যাপ্ত জল খাওয়া, দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখা, যৌনক্রিয়া, মূত্রনালি সম্পূর্ণ খালি না হওয়া এবং অপর্যাপ্ত ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গর্ভাবস্থা, ডায়াবেটিস, কিডনিতে বা মূত্রনালিতে পাথর, প্রোস্টেটের সমস্যা এবং ক্যাথেটার ব্যবহারের মতো কিছু অবস্থাতেও UTI-এর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
প্রধান লক্ষণ কী?
লক্ষণ নির্ভর করে সংক্রমণটি মূত্রনালির কোন অংশে হয়েছে তার ওপর। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা, প্রস্রাব করার সময় জ্বালা বা ব্যথা, অল্প অল্প করে প্রস্রাব হওয়া এবং প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া। কখনও প্রস্রাবে রক্তও দেখা যেতে পারে।
সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়লে জ্বর, কাঁপুনি, কোমর বা পিঠের পাশে ব্যথা, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কীভাবে সমাধান ও প্রতিরোধ করা যায়?
UTI-এর চিকিৎসা সংক্রমণের কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা বা মাঝপথে বন্ধ করা উচিত নয়, কারণ এতে চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পর্যাপ্ত জল খাওয়া, প্রস্রাবের বেগ হলে দেরি না করা এবং যৌনমিলনের পর প্রস্রাব করা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে টয়লেট ব্যবহারের পর সামনে থেকে পেছনের দিকে পরিষ্কার করাও উপকারী।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রস্রাবে জ্বালা বা বারবার প্রস্রাবের বেগকে সবসময় সাধারণ সমস্যা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে জ্বর, কোমরব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, গর্ভাবস্থা বা উপসর্গ দ্রুত বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।