ওঙ্কার ডেস্ক : উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায় হর্ষিল উপত্যকার ধরালী ও হর্ষিল গ্রামের বাসিন্দাদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। ভয়ঙ্কর হড়পা বানের এক সপ্তাহ পর রাজ্য সরকার যে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছিল, আর বাস্তবে প্রাপ্য মূল্য গ্রামবাসীদের হতাশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামী ৫ অগস্টের ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ঘোষণা করেছিলেন, যাঁরা গৃহহীন হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মৃতদের পরিবারের ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে আপাতত তুলে দেওয়া হয়েছে মাত্র পাঁচ হাজার টাকার চেক।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা, এটি কেবল ‘তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ’। উত্তরকাশীর জেলাশাসক প্রশান্ত আর্য জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুত করে পরে সঠিক পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে। প্রশাসনের দাবি সত্ত্বেও গ্রামবাসীরা এই সামান্য অর্থ নিতে অস্বীকার করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিপর্যয়ের মাত্রা কমিয়ে দেখিয়ে রাজ্য সরকার আসল ক্ষতিপূরণ এড়ানোর চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, ৫ অগস্টের বিকেলে হর্ষিল উপত্যকার উপর মেঘভাঙা বৃষ্টি নামার পর অল্প সময়ের মধ্যেই পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসে হড়পা বান। ঘণ্টায় প্রায় ৪৩ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা জল ও ধ্বংসস্তূপ মুহূর্তে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘরবাড়ি, চাষের জমি, গবাদি পশু। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধরালীর অন্তত ৩৫টি পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। একই অবস্থা হর্ষিল গ্রামেও। বিপর্যস্ত এলাকাগুলি থেকে এখন পর্যন্ত ৮২৫ জনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ঘরবাড়ি ভেঙে গিয়ে, জমি ও জীবিকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে কিছুই সম্ভব নয়। নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়া তো দূরের কথা, এই টাকায় প্রাথমিক চাহিদাও মেটানো যাবে না। ফলে দুই গ্রামেই ক্ষোভের আগুন আরও তীব্র হচ্ছে। এখন গ্রামবাসীদের একটাই দাবি অবিলম্বে ঘোষিত পূর্ণ ক্ষতিপূরণ হাতে তুলে দিতে হবে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হবে নিরপেক্ষভাবে।
