ওঙ্কার দেশ: দেশের পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি কোনো প্রবীণ বর্ষীয়ন নেতাই হবে এমনটাই জানালো বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। ফলে জেডিইউ সভাপতি তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে উপরাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। হঠাৎ পদত্যাগ করা প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখরের শূন্যপদ পূরণে দলের মূল আদর্শের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত কোনও নেতাকেই সামনে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এক শীর্ষ বিজেপি নেতা সংবাদ মাধ্যমকে সরাসরি জানিয়েছেন, “উপরাষ্ট্রপতি হবেন এমন একজন, যিনি দলের আদর্শের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।”
এর আগে জেডিইউ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর এবং বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার মধ্যে একটি বৈঠক ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছিল, বিহার ভোটের আগে জোটের বন্ধন দৃঢ় করতে বিজেপি হয়তো নীতীশ কুমারকে উপরাষ্ট্রপতির দৌড়ে আনতে পারে। তবে বিজেপি সূত্র সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ রুটিন মিটিং ছিল এবং জেডিইউ নেতৃত্বের সঙ্গে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। অন্যদিকে নাম উঠে আসছে কংগ্রেসের ইন্টেলেকচুয়াল নেতা শশী থারুরের। অপারেশন সিঁন্দুরের পর শাষকদলের প্রশংসা করেছিলেন তিনি। এর জেরে কংগ্রেসের সঙ্গে একটু দুরত্ব তৈরি হয় তাঁর। ফলে থারুরের উপরাষ্ট্রপতির পদের জন্য মনোনীত হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে রাজনৈনিক মহ্লের একাংশে।
নির্বাচন কমিশন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। কমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভোটের নির্দিষ্ট সূচি খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, “মূল প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী কোলাজ প্রস্তুত করা, যেখানে রাজ্যসভা ও লোকসভায় নির্বাচিত ও মনোনীত দুই ধরনের সদস্যই থাকবেন; তারপর রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ চূড়ান্ত করা; এবং শেষে অতীতের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পটভূমি-সংক্রান্ত তথ্যসামগ্রী তৈরি ও বিতরণ।”
এখনও পর্যন্ত বিরোধী শিবির থেকে কারও নাম প্রস্তাব করা হয়নি। উল্লেখযোগ্য, এ পর্যন্ত ১৬ বার উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ৪ বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বিরোধীরা পরে কোনও প্রার্থী দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
উপরাষ্ট্রপতি ধনখরের আচমকা পদত্যাগকে ঘিরে একাধিক জল্পনা রাজনৈতিক অন্দরে ঘুরছে। যদিও তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন, সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি একাধিকবার শাষক দলের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছিলেন। সর্বশেষ, বিচারপতি যশবন্ত বর্মার অভিশংসন প্রস্তাবে বিরোধীদের সমর্থন গ্রহণই প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে ধনখর বিরোধী দলগুলিকে যথেষ্ট বক্তব্য রাখার সুযোগ দিচ্ছিলেন, যা সরকারের একাংশের পছন্দ হয়নি। কৃষক ইস্যুতে প্রকাশ্যে কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের কাছে এক অনুষ্ঠানে কঠিন প্রশ্ন তোলাও ভালোভাবে নেয়নি শাসক শিবির। এমনকি তাঁর পদত্যাগ না হলে তাঁর বিরুদ্ধেই অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্তুতিও চলছিল বলে খবর।
ধনখরের পদত্যাগের পর থেকেই কে হবেন বিজেপির প্রার্থী, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা ছড়ায়। অনেকে মনে করেছিলেন, জেডিইউ-র কোনও নেতাকে এই পদে বসিয়ে বিহারের নির্বাচনের আগে বড় কৌশল নিতে পারে বিজেপি। তবে শীর্ষ বিজেপি সূত্র সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সেই সম্ভাবনা নেই। ফলে দলের অন্দর থেকেই কোনও প্রবীণ নেতাই দেশের উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাবেন এখন সেটাই প্রায় নিশ্চিত।
