ওঙ্কার ডেস্ক: আগামী উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এনডিএ প্রার্থী সি পি রাধাকৃষ্ণনের জন্য বিরোধীদের সমর্থন চাইলেও, অন্যদিকে মঙ্গলবার ‘ইন্ডিয়া’ জোট নিজেদের প্রার্থী হিসাবে প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি সুদর্শন রেড্ডির নাম ঘোষণা করেছে।
বিচারপতি রেড্ডি ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদ থেকে অবসর নেন। তার আগে তিনি অসমের গৌহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন। দীর্ঘ বিচারজীবনে ন্যায়বিচার ও সামাজিক ন্যায় রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিরোধী জোট তাঁকে সর্বসম্মতভাবে প্রার্থী করে।
বিরোধী প্রার্থী ঘোষণা করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়, এটি একটি আদর্শগত লড়াই। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আজ চরম চ্যালেঞ্জের মুখে। সব বিরোধী দল একমত হয়ে এক প্রার্থীর নাম ঠিক করেছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য বড় প্রাপ্তি।” সুদর্শন রেড্ডি নিজের প্রতিক্রিয়ায় ইন্ডিয়া টুডে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “আমি সমস্ত রাজনৈতিক দলকে, এমনকি এনডিএকেও, অনুরোধ করছি আমাকে সমর্থন করার জন্য। বিরোধী প্রার্থী হিসেবে আমি দেশের ৬০ শতাংশ জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করছি। ফলে আমার আত্মবিশ্বাস যথেষ্ট উঁচুতে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী শিবিরের এই কৌশলগত পদক্ষেপ এনডিএ-র অন্ধ্রপ্রদেশের সহযোগী দলগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। কারণ, চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি ও পাওয়ান কল্যাণের জনসেনা দুই জনেই অন্ধ্রপ্রদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে এনডিএ প্রার্থী রাধাকৃষ্ণনের নাম তামিলনাড়ু থেকে আসায় দক্ষিণী দলগুলিকে দ্বিধায় ফেলতে চেয়েছিল শাসক শিবির। সেই অবস্থায় দক্ষিণ ভারতীয় ও অরাজনৈতিক মুখ হিসাবে রেড্ডিকে বেছে নিয়ে বিরোধী জোট সমস্ত দাবিকে পূর্ণ করেছে। সূত্রের মতে, ডিএমকে চাইছিল দক্ষিণ থেকে কাউকে প্রার্থী করা হোক, আর তৃণমূল কংগ্রেস চাইছিল অরাজনৈতিক মুখ। ফলে রেড্ডির নামেই সর্বসম্মতি গড়ে ওঠে।
