ওঙ্কার ডেস্ক: মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন জগদীপ ধনকড়। আর এই পদের জন্য নির্বাচনের দিন ঠিক করে দিয়েছে কমিশন। সেপ্টম্বর মাসের ৫ তারিখে হবে নির্বাচন এবং সেদিনই প্রকাশ করা হবে ফলাফলও, এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে ইলেকশন কমিশন।
উল্লেখ্য, মেয়াদ ফুরনোর অনেক আগেই আচমকা পদত্যাগ করলেন দেশের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। এই সিদ্ধান্তে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। কারণ হিসাবে তিনি ‘স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা’র কথা বললেও রাজনৈতিক মহলে ঘনীভূত হয়েছে নানা জল্পনা। শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে অনেকে মনে করছেন, এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেন তিনি। বর্তমানে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং সাময়িকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ২০২২ সালের অগস্টে উপরাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়েছিলেন ধনকড়, যার মেয়াদ ছিল ২০২৭ পর্যন্ত। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইস্তফা দিয়ে ভারতের ইতিহাসে তৃতীয় উপররাষ্ট্রপতি হিসেবে মাঝপথে পদত্যাগ করলেন তিনি। এর আগে ভিভি গিরি ও আর ভেঙ্কটরমন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পদত্যাগ করেছিলেন।
ভারতের সংবিধানের ৬৮(২) ধারা অনুযায়ী, উপ-রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন করে নতুন কাউকে সেই পদে বসাতে হয়। সেই অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর ওই শূন্যপদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদের দুই কক্ষের সদস্যরা—লোকসভা ও রাজ্যসভার মোট ৭৮৮ জন। ভোট হবে একক স্থানান্তরযোগ্য পদ্ধতিতে, গোপন ব্যালটের মাধ্যমে।
এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে প্রার্থীর বয়স হতে হবে ন্যূনতম ৩৫ বছর, হতে হবে ভারতীয় নাগরিক এবং রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার যোগ্য। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রয়োজন হবে ২০ জন প্রস্তাবক ও ২০ জন সমর্থকের স্বাক্ষর। সঙ্গে দিতে হবে ১৫ হাজার টাকা জামানত এবং প্রার্থীর নাম রয়েছে এমন লোকসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকার প্রত্যয়নপত্র।
প্রথা অনুযায়ী, নয়াদিল্লির সংসদ ভবনের নির্ধারিত এক কক্ষে এই নির্বাচন হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো এখানে ভোটের আলাদা ‘ভ্যালু’ নির্ধারিত থাকে না, সব ভোটের মূল্য সমান। ভোটগ্রহণের দিনেই গণনা সম্পন্ন হয় এবং ফলাফলও প্রকাশিত হয়। ফলে ৯ সেপ্টেম্বরই জানা যাবে, কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি।
