ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের দিল্লি সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই সফরের পর ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতার বার্তা দিয়েছে চিন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত, রাশিয়া এবং চিন এই তিন দেশ শুধু এশিয়ার নয়, সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতা ও শান্তির ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সহযোগিতার পরিসর আরও বড় করা উচিত।
দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি-নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বৈঠকের পর রাশিয়া জানিয়ে দেয়, ভারতের জ্বালানি প্রয়োজন পূরণে তারা অবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ বজায় রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও রাশিয়া ভারতে তেল, গ্যাস এবং কয়লা সরবরাহ অব্যাহত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় পুতিন। ভারতের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, রাশিয়াকে নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবেই দেখা হয় এবং আগামি বছরগুলিতে জ্বালানির ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য খাতেও দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।
এই সফরকে সামনে রেখেই চিন নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, রাশিয়া-ভারত সম্পর্ক মজবুত হওয়া মানে অঞ্চলে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করা। চিনের তরফে বলা হয়েছে, তিন দেশের সম্পর্ক উন্নত হলে উন্নয়নশীল বিশ্ব আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে যে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলিতে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করবে না, এবং দুই দেশের নিজস্ব সংলাপের ওপরই গুরুত্ব দিতে হবে। তবু মস্কো-দিল্লি ঘনিষ্ঠতার ফলে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বাড়বে বলেই মত বেজিংয়ের।
পুতিনের সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি রূপরেখাও তৈরি হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কয়েকগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। শুধু জ্বালানি নয়, ওষুধ, পরিকাঠামো, খনিজ সম্পদ, কৃষিপণ্য, শিক্ষা-বিনিময়, প্রযুক্তি বিনিয়োগ নিয়ে যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। বৈঠকে দুই দেশ উন্নত পরমাণু-সহযোগিতার দিকেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি-হস্তান্তর নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে যেখানে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমী দেশের চাপ অব্যাহত, সেখানে দিল্লি সফর রাশিয়ার কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে বলেই মত রাজনৈতিক বোদ্ধাদের। অপরদিকে ভারতও তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে রুশ সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে যা একইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার শক্তিগুলির সঙ্গেই ভারসাম্য তৈরি করে চলার সংকেত দিচ্ছে।
