অপরূপা কাঞ্জিলাল
কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে হয় কালীপূজা। কোজাগরী পূর্ণিমার কৃষ্ণপক্ষের পঞ্চদশীতে। এর ঠিক আগের রাতে পালিত হয় ভূত চতুর্দশী। বাঙালিরা এইদিন চৌদ্দ শাক খেয়ে চৌদ্দপুরুষকে স্মরণ করেন।
পুরান মতে দানব রাজা বলি স্বর্গ, মর্ত ও পাতাল এই ত্রিলোক জয় করার পরে দেবতা, মানব ও জীবজন্তুদের উপর অত্যাচার শুরু করে। তখন ভগবান বিষ্ণু ব্রাহ্মণ রূপ ধারণ করে রাজা বলির কাছে ভিক্ষা চাইতে যান। ভিক্ষা দানে চুক্তি হয় যে ব্রাহ্মণের পাগুলি যতটুকু অংশ জুড়ে থাকবে ততটা অংশ দান করবে রাজা বলি। চুক্তিতে রাজি হন বলি। দুই পা দিয়ে স্বর্গ ও মর্ত্য দখল করে ফেলেন বিষ্ণু। এরপর নাভি থেকে বের হয় তাঁর তৃতীয় পা, যা রাখলেন বলি রাজার মাথার উপর। সঙ্গে সঙ্গেই পাতালে নেমে গেলেন দানবরাজ বলি। তারপর থেকে পাতালেই থাকলেন তিনি। তবে ভগবানের প্রতি অনুগত হওয়ায় ভগবান বিষ্ণু তাকে করুণা করলেন। প্রতিবছর মর্ত্যে তাঁর পূজা হবে এই আশীর্বাদ দেন তিনি।
তারপর থেকেই ভুত চতুর্দশীর উদ্ভব। অনেকে মনে করেন, ভুত চতুর্দশীর দিন যমের দরজা খুলে যায় এবং চোদ্দপুরুষের আত্মা পৃথিবীতে আসে। এই দরজা আবার ভাইফোঁটার দিন বন্ধ হয়ে যায়। অনেক জায়গায় চৌদ্দ ফোঁটা দেওয়া হয়, চৌদ্দ শাকে ভেজানো জল বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওল, পুঁই, বেতো, সর্ষে, কালকাসুন্দে, নিম, জয়ন্তী, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, পলতা, শৌলফ, গুলঞ্চ, ভাঁটপাতা ও শুষণী- এই চৌদ্দ রকমের শাক একসঙ্গে রান্না করার প্রথা রয়েছে ভূত চতুর্দশীতে।
চৌদ্দ শাক ভাজা আর চৌদ্দ প্রদীপ জ্বালানোর পশ্চাতে কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। বলা হয়, হেমন্তের শুরুতে পোকার উপদ্রব দূর করতে বাড়িতে চৌদ্দ প্রদীপ জ্বালানো হয়। আবার ঋতুর পরিবর্তনের কারণে এই সময়টা অসুখ বিসুখ হয় বেশি, তাই চৌদ্দ রকমের শাক খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। তবে বৈজ্ঞানিক এবং অবৈজ্ঞানিক কারণ যাইহোক। এদিন কিন্তু বেশ একটা গা ছমছমে ভাব তার সঙ্গে ভূতেদের বার, এদিন যে ভূত চতুর্দশী।
