ওঙ্কার ডেস্ক: সোমবার রাতভর টানা বৃষ্টিতে কলকাতা শহর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, অনেক স্থানে জলস্তর হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিশেষ করে কালীঘাট নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস রোড এবং অন্যান্য অঞ্চলে নদীজল এবং গঙ্গার জোয়ারে আরও প্রভাব বেড়েছে।
শহরের মেয়র ফিরহাদ হাকিম পরিস্থিতি ১৯৭৮ সালের প্রলয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ওই বছর সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতায় ৯৪৪.৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল, যার ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকা ১৮ ফিট জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। সেসময় প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং ব্যাপক ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছিল।
বর্তমান অবস্থাতেও অন্তত সাতজন মারা গেছেন, প্রধানত বিদ্যুৎস্পৃষ্টের কারণে। আবহাওয়া দপ্তর দক্ষিণবঙ্গ, বিশেষ করে কলকাতার জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। এটি দুর্গাপূজা উৎসবের সময় শহরের নাগরিকদের জন্য বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কলকাতা মেয়র উভয়ই দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন কে সমালোচনা করেছেন। কারণ পূর্বের কোন পরামর্শ ছাড়াই অতিরিক্ত জল ছাড়ার কারণে বিভিন্ন জেলা আরও বেশি জলমগ্ন হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘনঘন এবং মারাত্মক হয়ে উঠছে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে কলকাতা ও আশেপাশের এলাকা গুলিতে বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
শহরের পরিবহন, ব্যবসা, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবন ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত হয়েছে। নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং প্রশাসন রাতদিন চেষ্টা করছে জলমগ্ন এলাকার জল দ্রুত সরানোর জন্য।
