নিজস্ব সংবাদদাতা : পুজোর ঠিক দু’দিন আগে নিম্নচাপের জেরে রাতভর বৃষ্টিতে কার্যত ভেসে গেল কলকাতা। শহর, সল্টলেক ও আশপাশের বহু এলাকা বানভাসি চেহারা নিয়েছে। কোথাও কোমর সমান জল, কোথাও হাঁটু পর্যন্ত। বহু বাড়ির একতলায় ঢুকে গেছে জল। ফলে পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বড়সড় প্রভাব পড়েছে।
গত কয়েক মাসে ভয়ঙ্কর মেঘভাঙা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে গ্রাম ও জনপদ। ফলে প্রশ্ন উঠছিল— সমতলেও কি মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান সেই সংশয় কাটালেন। তিনি জানান, ক্লাউডবার্স্ট বা মেঘভাঙা বৃষ্টি মূলত পাহাড়ি এলাকায় ঘটে। কলকাতার ভৌগলিক অবস্থায় তা সম্ভব নয়। এবার যে বৃষ্টি হয়েছে, তা নিম্নচাপের প্রভাবে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে নেমেছে। ফলে অল্প সময়ে প্রচুর বৃষ্টি হলেও, তাকে মেঘভাঙা বলা যাবে না।
আবহাওয়া দফতরের হিসাবে, কলকাতায় মাত্র ৪–৫ ঘণ্টায় ২৫০–৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ক্লাউডবার্স্টের ক্ষেত্রে এতটা বৃষ্টি সাধারণত এক ঘণ্টার মধ্যেই হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন উল্লম্বভাবে তৈরি হওয়া মেঘ ভেঙে যায়, তখন স্বল্প সময়ে প্রচুর বৃষ্টি নামতে পারে। এক ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি হলে তাকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা হয়। অনেক সময় কয়েক মিনিটেই ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি নেমে আসে।
কলকাতায় এতটা তীব্রতা দেখা যায়নি। কিন্তু টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে শহরের চেহারা কার্যত অচল হয়ে গিয়েছে।
