ওঙ্কার ডেস্ক: একদিকে ইংরেজি মাসের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসের মধ্যগগন, অপরদিকে বাংলা মাসের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অগ্রহায়ণ মাসের শেষলগনে দাঁড়িয়ে। কিন্তু কোথায় জাঁকিয়ে শীত? যে কাঁপুনির খেলা শীত শুরুতে দেখিয়েছিল, ধীরে ধীরে তা যেন ম্লান হয়ে গেছে। সকালে মর্নিংওয়াকের পরে গরম ধোঁয়া ওঠা মাটির ভাঁড়ের চায়ে চুমুক দেওয়ার আগে খুলতে হচ্ছে গায়ের গরম পোশাক। সত্যিই ডিসেম্বর তো? নাকি টাইম মেশিনে চড়ে আরো ক’মাস এগিয়ে ফেব্রুয়ারি বা মার্চে দাঁড়িয়ে আছি আমরা?
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদে বেরোলে রীতিমত ছ্যাঁকা লাগছে গায়ে! শীত বিলাসী সবার মনেই একই প্রশ্ন, এ কেমন শীত রে বাবা! এবার কি শীতকে উপভোগ করতে গেলে গ্যাটের কড়ি খরচ করতে হবে নাকি!
আবহাওয়াবিদদের মতে উত্তর–পশ্চিম ভারতে তৈরি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জন্যই ঠান্ডা ও শুকনো বাতাসের প্রবাহ সাময়িক ভাবে থমকে গিয়েছে। তার ফলেই রাতের দিকের তাপমাত্রা আর কমছে না। এর পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিপরীত দিক, দক্ষিণ–পূর্ব দিক থেকে ঢুকছে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস। উত্তরের হাওয়ার ক্ষীণ স্রোত ওই জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসকে আটকাতে সক্ষম হচ্ছে না। ফলত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলো থেকে শীতের আমেজ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আবহবিদরা আরও জানাচ্ছেন, সামনের কয়েকদিন আবহাওয়ার এমনই অবস্থা চলবে। ঝঞ্ঝার প্রভাব পুরোপুরি কাটলে তবেই নতুন করে শীতের আমেজ পেতে শুরু করবে দক্ষিণবঙ্গ।
অপরদিকে উত্তরবঙ্গেরও একই ছবি। দার্জিলিং বাদে উত্তরের অন্যান্য পাহারঘেষা এলাকার তাপমাত্রা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।
কিন্তু আর কবে কাটবে এই পরিস্থিতি? সেই নিয়েই সকলের মনে বড়ো একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
