ওঙ্কার ডেস্ক: ঘন স্মগে ঢেকেছে রাজধানী। ধোঁয়াশায় ডেকেছে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। শনিবার সকালে শহরের বায়ুগুণ সূচক ছিল প্রায় ৩৮০, যা ‘খুব মানের’ শ্রেণির আওতায় পড়ে। স্বাভাবিক ভাবেই দূষণের প্রভাবে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় উড়ান ও ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। সকাল থেকেই সমস্যায় পড়েছেন একাধিক নিত্যযাত্রীরা।
প্রগতি ময়দান সংলগ্ন ভৈরব মার্গ এলাকায় সকাল ৭টায় AQI পৌঁছায় ৪৩৩-এ। রাস্তায় অনেক গাড়িকেই হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতেও দেখা গিয়েছে। দিল্লির মোট ৪০টি দূষণ মাপার কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টিতেই বাতাসের মান ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে রয়েছে।
আনন্দবিহার ও জাহাঙ্গিরপুরির পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ বলে জানা গিয়েছে। আনন্দবিহারে AQI ছিল ৪২৮, জাহাঙ্গিরপুরিতে ৪২৫। দুই এলাকাতেই বাতাসে সূক্ষ্ম ধূলিকণা দূষণের প্রধান কারণ। ঘন স্মগের কারণে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সতর্কও করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, দৃশ্যমানতা কম থাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর মারফত তথ্যে, রানওয়েতে দৃশ্যমানতা কখনও ৮০০, কখনও ১২০০ মিটারের আশপাশে রয়েছে। এর জেরে একাধিক উড়ান দেরিতে চলছে। পাশাপাশি রেল চলাচলেও একই প্রভাব পড়েছে। ৩০টির বেশি ট্রেন গড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা দেরিতে চলছে। ভূবনেশ্বর-নয়াদিল্লি তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস প্রায় আট ঘণ্টা দেরিতে চলছে। কাটিহার-দিল্লি চম্পারণ হামসফর এক্সপ্রেসও দীর্ঘ সময় পিছিয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, শনিবার ও রবিবার দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় ঘন থেকে অতিঘন কুয়াশার সম্ভাবনা। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে শনিবারের জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। এয়ার কোয়ালিটি আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দিল্লির বাতাসের মান আরও নামতে পারে। রবিবার ও সোমবার বাতাস ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে পৌঁছনোর আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে, দূষণের কারণে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
