ওঙ্কার ডেস্কঃ “ওই এল বৈশাখ, ওই নামে গ্রীষ্ম,
খাই খাই রবে যেন ভয় কাঁপে বিশ্ব ! ”
বৈশাখ মাস চলে গেছে তো কি, এসেছেন যে তার জ্যেষ্ঠ দাদা, জ্যৈষ্ঠ। তিনি এসেই সুকুমার রায়ের এই পঙক্তির সত্যতা প্রমাণ করার দায়িত্ব নিয়েছেন যে!
সকাল থেকেই নিজের চমক দেখাতে ব্যস্ত থাকেন সুজ্জিমামা। আর তার তাপে কার্যত ছ্যাঁকা খেতে হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গবাসীকে। আবার তিনি তো একা আসেন নি, তারসঙ্গে দোসর করে এনেছেন আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকে। সন্ধেবেলা সুজ্জিমামা অস্তের সময় তাপকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেও ফেলে রেখে দিয়ে যান আর্দ্রতাকে। আর তার অসস্ত্বিতেই তারপর গলদঘর্ম হাল হয় দক্ষিণবঙ্গবাসীর।
তবে এখন প্রশ্ন কতদিন চলবে এদের এই দৌরাত্ম! আদৌ কি কোনো আশার বাণী শোনাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা?
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। সঙ্গে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।
তবে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী হাওড়া ও হুগলি জেলায় আপাতত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কোন সম্ভাবনা নেই। বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে দু এক পশলা হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে তা গরম কমাতে খুব একটা সহায়তা করবে না বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম জেলায় বৃষ্টিপাত হলেও অস্বস্তি গরমের হাত থেকে রেহাই পাবে না এখানকার মানুষজন।
উত্তর ২৪ পরগনার ক্ষেত্রে আগামী তিনদিন বৃষ্টিপাত না হলেও বুধবার ও বৃহস্পতিবার বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তার পাশাপাশি ঘন্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগণার পর সোজা এবারে চলে যাওয়া যাক উত্তরবঙ্গে। সেখানে কেমন থাকবে আবহাওয়া। উত্তরবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির দাপট আরও বাড়বে। উত্তরের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও উত্তর দিনাজপুরে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।