ওঙ্কার ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ। সমুদ্রের পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল হয়ে উঠছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, সোমবার সকালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। বুধবারের মধ্যে সেটি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’।
আবহাওয়া দফতরের শনিবার দুপুরের বুলেটিন অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে থাকা নিম্নচাপ অঞ্চলটি এ দিন সকালে আরও স্পষ্ট হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায় রয়েছে। শনিবারই নিম্নচাপ অঞ্চলটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর সেটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে। রবিবারের মধ্যে তা গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। সোমবার সকালে সেই গভীর নিম্নচাপ থেকেই ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহবিদদের অনুমান, ঘূর্ণিঝড়টি সমুদ্রের উপর দিয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আরও শক্তি সঞ্চয় করবে। ২৮ অক্টোবর, বুধবার সকালে সেটি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। এরপর স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ কত হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই। কলকাতা, হাওড়া-সহ একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
পরদিন বুধবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ওই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বজ্রপাতের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। শুক্রবার সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। ওই সময় ঝোড়ো হাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।