ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক তথা প্রবীণ আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিতর্কিত ভিডিও পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, মহুয়া মৈত্র তাঁর সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে অজয় পাল শর্মাকে একটি নাইটক্লাবে নাচেরত অবস্থায় দেখা যায়। যদিও পরে দাবি ওঠে, ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর, বিকৃত এবং সম্ভাব্যভাবে ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা-সহ একাধিক স্পর্শকাতর কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরদারি চলছিল। সেই সময় অজয় পাল শর্মা ভোট প্রক্রিয়ায় কঠোর ভূমিকা নিয়ে শাসকদলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ। এরপরই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিরোধী মহলের দাবি। বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াতেই এই প্রচার চালানো হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই দিল্লি পুলিশের সাইবার শাখায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে কোনও ব্যক্তির ছবি বা ভিডিও বিকৃত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার শামিল। নির্বাচন কমিশনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সূত্রের খবর।
অজয় পাল শর্মা, যিনি অতীতে উত্তরপ্রদেশে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটারদের নিরাপত্তা, সন্ত্রাস রোধ এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর বিরুদ্ধে এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়া ঘটনাটিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে যদিও সরাসরি এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে দলের কিছু নেতা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, সামাজিক মাধ্যমকে অস্ত্র করে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো এখন নির্বাচনী কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টিও আকর্ষিত হয়েছে। আদালত আপাতত ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন সরাসরি হস্তক্ষেপে অনীহা দেখালেও, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং ডিজিটাল প্রচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্যযুদ্ধেরও বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে। ডিপফেক প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতে নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও গণবিশ্বাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই বিতর্ক সেই আশঙ্কাকেই আরও প্রকট করে তুলেছে।