ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ ঘিরে রাজ্যজুড়ে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় মোট ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৮৯.৯৯ শতাংশে, যা প্রথম দফার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ৮৯.৯৩ শতাংশকেও অতিক্রম করেছে। ফলে স্পষ্ট, দ্বিতীয় দফায় ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও বেশি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলায়, যেখানে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৯২.৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে দক্ষিণ কলকাতায়, যেখানে ভোটের হার ছিল ৮৬.১১ শতাংশ। তবে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ জেলাগুলিতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন এবং ব্যাপক উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
জেলা ভিত্তিক হিসেব বলছে, উত্তর কলকাতায় ভোটদানের হার ৮৭.৭৭ শতাংশ, হাওড়ায় ৮৯.৪৪ শতাংশ, উত্তর ২৪ পরগনায় ৮৯.৭৪ শতাংশ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৮৯.৫৭ শতাংশ, হুগলিতে ৯০.৩৪ শতাংশ এবং নদিয়ায় ৯০.২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিটি জেলাতেই বিকেলের দিকে ভোটদানের গতি আরও বৃদ্ধি পায়।
সকাল থেকে বিভিন্ন বুথে ভোটারদের উৎসাহ ছিল প্রবল। বহু জায়গায় নারী, প্রবীণ এবং প্রথমবারের ভোটারদের অংশগ্রহণ নজর কাড়ে। রাজনৈতিক টানাপোড়েন, বিক্ষিপ্ত উত্তেজনা ও অভিযোগের আবহ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভোটদানে আগ্রহ ছিল যথেষ্ট।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৬টা। ফলে শেষ এক ঘণ্টায় আরও ভোট পড়ার সম্ভাবনা ছিল, যা সামগ্রিক ভোটদানের হারকে আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় এই বাড়তি অংশগ্রহণ রাজনৈতিক মহলেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের অসম বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮৫.৩৮ শতাংশ। সেই নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটদানের হার অনেকটাই বেশি। এমনকি পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের ভোটদানের হারও প্রায় সমপর্যায়ে ছিল। ফলে বাংলার নির্বাচনে ভোটারদের এই বিপুল সাড়া রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করল বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
সন্ধ্যা ৬টার পর চূড়ান্ত ভোটদানের হার প্রকাশিত হলে দ্বিতীয় দফার সামগ্রিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।