নিজস্ব সংবাদদাতা : লক্ষ্য ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। অঙ্গ কলিঙ্গের পর বিজেপির লক্ষ্য এবার বঙ্গ জয়। সে কথা মাথায় রেখে রণকৌশল কষছে গেরুয়া শিবির। নির্বাচনের বাকি হাতে গোনা কয়েকটি মাস। তাই নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগোল বিজেপি। এবার নির্বাচনী সংকল্প পত্র বা ইস্তেহার কমিটি তৈরি করল গেরুয়া ব্রিগেড। বিজেপি সূত্রে খবর, ১১ সদস্যের একটি রাজ্য সংকল্প পত্র বা ইস্তেহার কমিটি গঠন করেছে বঙ্গ বিজেপি। শনিবার দলের রাজ্য দফতর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই কমিটির ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে, কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে তাপস রায়কে। আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চিত্তরঞ্জন মণ্ডল, সাংসদ মনোজ টিগ্গা, স্বপন দাশগুপ্ত, শিশির বাজোরিয়া, অমলকান্তি রায়, বৈশালী ডালমিয়া, অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় এবং আইনজীবী দেবজিৎ সরকার।
দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রেখেই সংকল্প পত্র বা নির্বাচনী ইস্তাহার প্রস্তুত করবে এই কমিটি। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও বিভিন্ন পেশার মানুষের মতামত নেবে এই কমিটি। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আইনশৃঙ্খলা-সহ একাধিক ইস্যুকে গুরুত্ব পাবে ইস্তাহারে। ইস্তাহার কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে তাপস রায়কে। শুধু তাই নয়।তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়কে রাজ্য কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়। তাঁকে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সহ-সভাপতির পদও।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে এবং ২০২৬-এর ভোটে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিতে এই সংকল্প পত্র গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে,ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মানুষকে কাছে টানতে বিজেপি কি প্রতিশ্রুতি দেন। কর্ম সংস্থান শিল্প নিয়ে ‘তৃণমূলকে নাগারে আক্রমণ করছে বিজেপি। সেই বিষয়গুলো ইস্তাহারে জায়গা পায় কি না। তা নিয়ে কৌতুহল বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে দিলীপ বির্তক যেন কোন ভাবেই পিছু ছাড়ছে না বিজেপির। জানা গেছে বিজেপির ৩৫ জনের রাজ্য কমিটিতে নাম নেই দিলীপ ঘোষের !
গুরুত্বপূর্ণ পদে তাপস রায়। তবে দিলীপ, সুকান্তদের নাম রাজ্য কমিটিতে না থাকা নিয়ে বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, বিজেপির সাংগঠনিক গঠন প্রক্রিয়া অনুযায়ী যদি কেউ অতীতে রাজ্য সভাপতির পদে থাকেন বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন তাহলে তাঁকে রাজ্য কমিটিতে রাখা হয় না। তাছাড়া দুটো টার্মে রাজ্য সভাপতি থাকার পর দিলীপ ঘোষ সরে যাওয়ার কিছুটা পরেই তাঁকে সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করা হয়েছিল। সেই অর্থে বিজেপির সাংগঠনিক স্ট্রাকচার মেনে দিলীপ ঘোষকে কোনও মতেই আর রাজ্য কমিটিতে ফেরানো সম্ভব ছিল না।
যাই হোক, ২৭ জানুয়ারি দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের বঙ্গ সফরের আগে রাজ্য বিজেপি যে তার সাংগঠনিক তৎপরতা সক্রিয় রাখতে চাইছে তা স্পষ্ট। সভাপতি পদে শপথ নিয়েই নিতিন নবীন জানিয়ে ছিলেন, তাঁর প্রথম লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন। সেই লক্ষ্যে বঙ্গ বিজেপিরে সাংগঠনিক মজবুতির দিকে তিনি নজর দিতে চান। সর্বভারতীয় সভাপতির মনবাসনাকে যে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন শমীক, তাঁর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলি সেই ইংগিত দিচ্ছে।
