নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের ২৮৪টি বিধানসভা আসনের প্রার্থীদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলো প্রদেশ কংগ্রেস। প্রত্যাশিত ভাবে বহরমপুরে কংগ্রেসের প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে। মালদার মালতীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের হয়ে লড়বেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া থেকে ফের প্রার্থী করা হয়েছে আলি ইমরান রামজ় ওরফে ভিক্টরকে।
বালিগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রের পুত্র রোহন মিত্রকে। ভবানীপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কংগ্রেসের দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ। নন্দীগ্রাম আসনে কংগ্রেস আস্থা রেখেছে দলের যুব মুখ শেখ জরিয়াতুল হোসেনের উপর। রাসবিহারী কেন্দ্রে ফের প্রার্থী হয়েছেন আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়।
২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত বিধায়ক থাকা বেশ কয়েক জনকে এই নির্বাচনে টিকিট দিয়েছে কংগ্রেস। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রায়গঞ্জের মোহিত সেনগুপ্ত, চাঁচলে অসিফ মেহবুব, হরিশ্চন্দ্রপুরে মোস্তাক আলম। তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া অমল আচার্যকে ইটাহার কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে।
১০টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়নি। কংগ্রেস সূত্রে খবর, তৃণমূলের টিকিট না-পাওয়া বেশ কয়েক জন বিধায়ক প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন করেছেন। তাঁদের আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ওই সূত্রের দাবি। ২৮৪ জনের তালিকায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নাম নেই। ২০২১ সালে তিনি শ্রীরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ঘটনাচক্রে, রবিবার যে আসনগুলিতে প্রার্থীদের নাম জানানো হয়নি, তার মধ্যে রয়েছে শ্রীরামপুরও। ওই আসন থেকে শুভঙ্কর ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। এই ১৫২টি আসনের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে সোমবারই। মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগেই প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করল হাত শিবির। প্রসঙ্গত, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একাই চলার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই বামেদের সঙ্গে এবার জোটে যায়নি কংগ্রেস। একক ভাবে ২৯৪টি আসনেই লড়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তবে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার পর প্রায় সব দলই অধিকাংশ আসনে প্রার্থীদের নাম জানিয়ে দিলেও এত দিন কংগ্রেসের তরফে তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছিল না। তা নিয়ে দলের নিচুতলার কর্মীরা খানিক অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে ১০টি আসন বাদে রাজ্যের বাকি আসনগুলির জন্য প্রার্থীদের নাম জানিয়ে দিল কংগ্রেস।