ওঙ্কার ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানা ওড়িশায় কর্মরত অবস্থায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারানোর পর তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে জুয়েল রানার মায়ের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে শোকাহত পরিবারের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফেরার আশার আলো দেখছে প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, জুয়েল রানার মাকে মুর্শিদাবাদের সুতি-১ ব্লকের বিএলআরও দফতরে অ্যাটেন্ডেন্ট পদে নিয়োগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এই নিয়োগপত্র তুলে দেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি ও সাংসদ খলিলুর রহমান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। গোটা প্রক্রিয়াটি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী আগেই দিয়েছিলেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন জুয়েলের মা। ছেলের অকালপ্রয়াণে ভেঙে পড়া এই মা জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে জীবন একেবারে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাঁদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নতুন ভরসা জুগিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই সহানুভূতি ও সহযোগিতা তাঁদের শোক সামলে এগিয়ে চলার শক্তি দেবে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকার। জুয়েল রানার পরিবারের ক্ষেত্রেও সেই নীতিরই প্রতিফলন ঘটেছে। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে এবং বিপদের সময়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা আরও একবার স্পষ্ট করছে।
