নিজস্ব প্রতিনিধি, পূর্ব মেদনিপুরঃ উপকূলবর্তী এলাকার সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মৎস্য, জলজপ্রাণী বিকাশ, জলজসম্পদ ও মৎস্য দফতরের উদ্যোগে সমুদ্র সৈকত নগরী দিঘায় অনুষ্ঠিত হলো এক বৃহৎ সচেতনতামূলক কর্মসূচি। বুধবার দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মৎস্যজীবী, ট্রলার মালিক, মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রাজেশ মহাত, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুচ্ছাইত, এগরার বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, খেজুরির বিধায়ক সুব্রত পাইক, উত্তর কাঁথির বিধায়ক সুমিতা সিনহা, মৎস্য দফতরের সচিব শুভাঞ্জন দাশ (আইএএস), এডিজি ও আইজিপি (কোস্টাল সিকিউরিটি) হরিকিশোর কুসুমাকার (আইপিএস), আইজি (কোস্টাল সিকিউরিটি) অর্ণব ঘোষ (আইপিএস), পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামল মন্ডল, জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ তরুণ কুমার জানা, রামনগরের প্রাক্তন বিধায়ক স্বদেশ রঞ্জন নায়ক-সহ মৎস্য দফতর, উপকূল নিরাপত্তা বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। এছাড়াও দিঘা ও শংকরপুর এলাকার মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা, ট্রলার মালিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মূলত, সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা, ট্রলারে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখা, ভিএইচএফ সেট ও অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা, সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় সমুদ্রে না যাওয়ার মতো বিষয়গুলি কঠোরভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়াও ঘূর্ণিঝড়, নিম্নচাপ বা সমুদ্রের আকস্মিক দুর্যোগের সময় কীভাবে দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে হবে, কীভাবে উদ্ধারকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মৎস্যজীবীদের হাতে-কলমে বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবহার সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে সরকারের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবীদের জন্য চালু থাকা বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প, দুর্ঘটনা বিমা, আর্থিক সহায়তা, উদ্ধার পরিষেবা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদে মাছ ধরার সুবিধা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, উপকূলবর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের জীবিকা সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল। তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
মৎস্য দফতরের আধিকারিকরা জানান, দিঘায় এই কর্মসূচির সাফল্যের পর ভবিষ্যতে উপকূলবর্তী অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের বৃহৎ সচেতনতামূলক শিবিরের আয়োজন করা হবে, যাতে আরও বেশি সংখ্যক মৎস্যজীবী নিরাপত্তা সংক্রান্ত আধুনিক জ্ঞান ও সরকারি পরিষেবার সুবিধা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।
অন্যদিকে, এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন উপস্থিত মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিকরা। তাঁদের বক্তব্য, সমুদ্রে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। তাই সরকারের এই সচেতনতামূলক উদ্যোগ তাঁদের নিরাপদে মাছ ধরতে, দুর্যোগের সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ উপকূলবর্তী অঞ্চলে নিরাপদ মৎস্যচাষ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।