ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতা পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকার প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে সম্পত্তি কর আদায় ব্যবস্থায়। পুরসভার অন্যতম প্রধান রাজস্বের উৎস এই সম্পত্তি কর সংগ্রহে গতি কমে যাওয়ায় আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য পুরসভার নিজস্ব আয়ের উপর বড়সড় নির্ভরতা রয়েছে। সেই জায়গায় কর আদায়ে শ্লথগতি প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
কলকাতা পুরসভার আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে সম্পত্তি করের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরের রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, আলো, বর্জ্য পরিষ্কার, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তার একটি বড় অংশ আসে পুরসভার নিজস্ব রাজস্ব থেকে। ফলে সম্পত্তি কর আদায় কমে গেলে পুরসভার আর্থিক পরিকল্পনায় তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশ। পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে সম্পত্তি কর আদায়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও আধিকারিকদের একটি বড় অংশকে অন্য সরকারি কাজেও যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাঁদের নিয়মিত কর আদায়ের কাজে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, বকেয়া কর আদায়ের উদ্যোগ এবং করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।
এর পাশাপাশি নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকার বিষয়টিও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আলোচনায় উঠে এসেছে। পুরবোর্ড থাকলে স্থানীয় কাউন্সিলরদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কর সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং বকেয়া আদায়ে স্থানীয় স্তরে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়। বর্তমানে সেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর অনুপস্থিতিতে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিচ্ছে বলে মত অনেকের। যদিও পুর প্রশাসনের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র নির্বাচিত বোর্ড না থাকার কারণেই সম্পত্তি কর আদায় কমেছে এমনটা সরাসরি বলা যায় না। তাঁদের মতে, মূল সমস্যা হল কর্মীদের উপর বাড়তে থাকা অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ। একাধিক সরকারি কাজের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে কর আদায়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়েছে।