ওঙ্কার ডেস্ক: সামান্য টিভি দেখা নিয়ে বচসার জেরে খুন উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার বৃদ্ধপাল্লা এলাকায়। নিখোঁজ থাকার পর যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, এলাকারই দুই যুবক তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে। ইতিমধ্যেই মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আটক করা হয়েছে অভিযুক্তদের মধ্যে টোটোন নামে এক যুবককে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ মুণ্ডা। তিনি গোপালনগর থানার বৃদ্ধপাল্লা এলাকার বাসিন্দা। পেশায় রাজমিস্ত্রি বিশ্বজিৎ দীর্ঘদিন ধরে কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে থাকতেন। কয়েক মাস আগে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী বাপের বাড়িতে গিয়েছেন। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময়ই এলাকার একটি ক্লাবে কাটাতেন বিশ্বজিৎ। অভিযোগ, দিন তিনেক আগে ওই ক্লাবেই টিভি দেখা নিয়ে বিশ্বজিতের সঙ্গে এলাকার দুই যুবক নিতাই ও টোটোনের বচসা হয়। সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সেই বিবাদ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের দাবি, সেই সময় বিশ্বজিৎকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে বসে খাওয়া-দাওয়া করছিলেন বিশ্বজিৎ। পরিবারের দাবি, সেই সময় টোটোন ও নিতাই তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তাঁদের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। প্রথমে পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন, হয়তো পরিচিত কারও সঙ্গে কোথাও গিয়েছেন। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেওয়া হলেও বিশ্বজিতের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। সারারাত নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার সকালে বৃদ্ধপাল্লা এলাকার একটি মাঠে বিশ্বজিতের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে বিষয়টি দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। খবর দেওয়া হয় গোপালনগর থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
প্রাথমিকভাবে পরিবারের অভিযোগ, টিভি দেখা নিয়ে কয়েক দিন আগে যে বচসা হয়েছিল, তার জেরেই পরিকল্পনা করে বিশ্বজিৎকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে খুন করা হল, ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, কিংবা খুনের আগে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।