ওঙ্কার ডেস্ক: জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে আগেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান হানিট্র্যাপ হিসেবে কেবল অর্পিতাকে কাজে লাগায়নি জঙ্গিরা। আরও একাধিক সুন্দরী মডেলকে এই কাজে লাগানোর ছক ছিল তাদের। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন সমাজ মাধ্যমে সুন্দরী মডেলদেরকে টার্গেট করত তারা। তদন্তে উঠে এসেছে, রাজ্যের অন্তত ৬ জন মন্ত্রীকে হানিট্র্যাপে ফাঁসানোর ছক ছিল জঙ্গিদের। শুধু মন্ত্রীরা নন, তাঁদের পরিবারের লোকজনকেও হানিট্র্যাপে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করা হয়। অর্পিতা ছাড়া আর কাদেরকে এই ব্যাপারে কাজে লাগানোর ছক কষা হয়েছিল গোয়েন্দারা তা জানার চেষ্টা করছেন।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া হামিম মণ্ডলের মতো এজেন্টদেরকে নির্দেশ দেওয়া হত লাস্যময়ী মডেলদেরকে টার্গেট করার জন্য। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে মোটা টাকার প্রলোভন দেওয়া হত, কখনও সখনও সিনেমায় কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হানিট্র্যাপ হিসেবে ব্যবহার করা হত। পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীর নির্দেশ অনুযায়ী, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিয়ের প্রস্তাবও দিতে হত। সেই নির্দেশমতোই হামিম ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা অর্পিতা সরকারকে টোপ দিয়েছিল। হামিমের নির্দেশ অনুযায়ী প্রায় চার মাস ধরে অর্পিতা হাওড়ার মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে কথা চালিয়ে যেত। ওই মন্ত্রীপুত্রের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষেছিল সে। শুধু তাই নয়, অপহরণেরও পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এদিকে হামিম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে সোমবার হাওড়া থেকে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয় এক যুবককে। ধৃত যুবকের নাম আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা সে। উমেশচন্দ্র কলেজের কমার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সে। রবিবার রাতেই স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স এর গোয়েন্দারা তাঁকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয় আদিত্যকে। সোমবারই বর্ধমান আদালতে ওই হামিম ঘনিষ্ঠকে তোলা হবে।