ওঙ্কার ডেস্ক: অব্যাহত তৃণমূলের মুষলপর্ব, শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মেয়র গৌতম দেব। শুক্রবার সকালে তিনি পুর কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। বুধবার গৌতম দেবকে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কমিটির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করে দল। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন তিনি সংগঠনে আরও বেশি করে নজর দিন। এর মধ্যে আচমকা মেয়র পদে ইস্তফার কারণ নিয়ে জল্পনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। সেই মিটিং –এ তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করলে উপস্থিত সকল মেয়র পারিষদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। এর পরবর্তীকালে কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় মেয়র পারিষদরা। এইভাবে ঘাসফুল শিবিরের গৌতম দেবের পদত্যাগ যে তৃণমূলের শেষ সম্বল হারানো তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর আগে তৃণমূলের টিকিটে সঙ্গীতা বসুনিয়া জিতলেও তিনি আজ চলে গিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে। ৪ ঠা মে-র পর থেকেই কার্যত তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারা দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
২০১১ সালে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব পান গৌতম দেব। ২০১৬ সালে পর্যটনমন্ত্রী হন। কিন্তু ২০২১ সালের নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসন থেকে হেরে যান তিনি। ২০২৬ সালে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েও একই পরিণতি হয়। এর মাঝে ২০২২ সালে শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে জয় পায় তৃণমূল। এবার সেটাও হাতাছাড়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফলাফল এবং আগামী বছর হতে চলা পুরভোটের আগে শিলিগুড়ি মহকুমায় দলের সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা হিসেবেই এই ঘোষণাটিকে দেখা হচ্ছে। পুরভোটের পরপরই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে দার্জিলিং সমতল অঞ্চলের তিনটি বিধানসভা আসন—শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া—এর কোনওটিতেই তৃণমূল জয়ী হতে পারেনি। শিলিগুড়ি আসনে গৌতম দেব স্বয়ং বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তৃণমূলের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, গৌতম দেব দলের পদাধিকারী হিসেবে নতুন মুখদের নিয়ে আসার জন্য দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। দলের এক নেতা বলেন, “তিনি এও বলেছিলেন যে তিনি আর নির্বাচনী রাজনীতিতে থাকতে চান না। মনে হচ্ছে দল তাঁর কথা রেখেছে এবং কুন্তল রায়কে দায়িত্ব দিয়েছে, পাশাপাশি তাঁকে দলের মধ্যে নতুন কোনও দায়িত্ব অর্পণ করেছে।” গৌতম দেব জানিয়েছেন, তিনি তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবেন। কুন্তল রায় জানিয়েছেন, তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।