ওঙ্কার ডেস্ক: রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানকে নিশানা করে তীব্র কূটনৈতিক আক্রমণ শানাল ভারত। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি আঙুল তুলে নয়াদিল্লি অভিযোগ করেছে, ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভারতের বক্তব্য, যে দেশ নিজেই জঙ্গি সংগঠনগুলিকে লালন-পালন করেছে, সেই দেশ এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে সন্ত্রাসবাদের শিকার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে ‘রাইট টু রিপ্লাই’-এর মাধ্যমে ভারতের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। ভারতীয় প্রতিনিধি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত। একই সঙ্গে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। সেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের সমালোচনা করা হয়।
ভারতের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গ। ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, বিশ্বের বহু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের একাধিক বক্তব্যেও সন্ত্রাসবাদীদের প্রতি সহানুভূতি বা সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলে ভারতের দাবি। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ বলে উল্লেখ করে ভারত জানায়, যে শক্তিকে একসময় নিজেই তৈরি ও পুষ্ট করা হয়েছিল, এখন সেই শক্তির ফল ভোগ করতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে।
সিন্ধু জলচুক্তির প্রসঙ্গও উঠে আসে ভারতের বক্তব্যে। নয়াদিল্লির দাবি, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা, আস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে যে চুক্তিগুলি গড়ে উঠেছিল, সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার অভিযোগে সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ভারত জানায়, বর্তমান বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বহু পুরনো চুক্তিকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সেই আবহেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে সরাসরি আক্রমণ করে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে কোনও রকম আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় নয়াদিল্লি।