ওঙ্কার ডেস্ক: রাজধানী শহর দিল্লিতে নিজের বাড়িতে ৪৫ বছর বয়সী পরিচারিকাকে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন এক চিকিৎসক। তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই গৃহকর্মীকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিতে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করেছিলেন অভিযুক্ত। শুক্রবার পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এই তথ্য জানিয়েছেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর দিল্লিজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির অভিজাত এলাকা ‘মাউন্ট কৈলাস’-এ নিজের বাড়িতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ মণীশ গুপ্ত বৃহস্পতিবার সকালে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে এবং ছুরিকাঘাত করে তাঁর গৃহকর্মী মীনাকে হত্যা করেন। মিনা প্রায় ১৫ বছর ধরে তাঁর বাড়িতে পরিচারিকা হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, কালো জাদুর সন্দেহে মনীশ তাঁকে হত্যা করেন। তবে পুলিশ পরে জানায়, এমন দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসি) হেমন্ত তিওয়ারি জানান, গৃহকর্মীকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া বা কাজ থেকে ছাড়ানো নিয়ে মণীশ গুপ্তার সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছিল। যিনি একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। তাঁর স্ত্রী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, মণীশের মা যখন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন, তখন মিনা তাঁর দেখাশোনা করেছিলেন।
তদন্তকারীদের অনুমান, মনীশ মনে করেছিলেন, পরিবারের কাছে গৃহকর্মীর গুরুত্ব তাঁর চেয়ে বেশি। আর এই বিষয়টিই তিনি মেনে নিতে পারেননি। পুলিশের সন্দেহ, হত্যার আগে মণীশ গুপ্তা ও মিনার মধ্যে কোনও এক বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গুপ্তা প্রায় ১০ বছর ধরে ডিপ্রেশনে ও অবসেসিভ-কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD)-এর চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ওষুধও চলছিল তাঁর।