ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বুধবার গভীর রাতে দোহরিয়া এলাকার কাছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের দিকে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। সেই সময় আচমকাই মোটরবাইকে করে আসা কয়েকজন আততায়ী তাঁর গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানো হয়। গুলিতে গুরুতর জখম হন চন্দ্রনাথ। হামলার সময় তাঁর গাড়ির চালকও আহত হন বলে জানা গিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথ রথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক গুলির খোল উদ্ধার করেছে পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হামলাটি পরিকল্পিতভাবেই চালানো হয়েছে। তবে এর পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক কারণ নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন। রাজনৈতিক মহলে তিনি শুভেন্দুর অন্যতম বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, একসময় তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক পরিসরে কাজ শুরু করেন এবং শুভেন্দু অধিকারীর সংগঠনিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন দায়িত্ব সামলাতেন।
চন্দ্রনাথের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিত খুন বলে দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকেও ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। দলের নেতাদের অভিযোগ, রাজ্যে ক্রমশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রাজনৈতিক হিংসা ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও এই ঘটনার নিন্দা করেছে। তাদের বক্তব্য, অপরাধীদের কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নেই, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। চন্দ্রনাথের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে তৃণমূল।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক অশান্তির অভিযোগ সামনে আসছে। সেই আবহেই জয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ ব্যাক্তিত্বের ঘনিষ্ঠের উপর এই আকস্মিক এই হামলা এবং খুনের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে মধ্যমগ্রাম এলাকাতেও। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্তে একাধিক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।