ওঙ্কার ডেস্ক: পূর্ব বর্ধমান থেকে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি হামিম মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনার পর পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পনগরী দুর্গাপুরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় শহরের বিভিন্ন বহুতল আবাসন ও আবাসিক কমপ্লেক্সে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বড় বড় আবাসনগুলিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের বসবাস এবং নিয়মিত বাইরের লোকজনের যাতায়াতের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গি বা সমাজবিরোধীরা আত্মগোপন করতে পারে। তাই এখন থেকেই বাসিন্দাদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিধায়ক দুর্গাপুরের কাঁকসা এলাকার অন্যতম বড় আবাসন তপোবন সিটিতে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্য থেকে কর্মসূত্রে বহু মানুষ দুর্গাপুরে এসে ভাড়া থাকেন। ফলে কোনও ব্যক্তি বা পরিবার নতুন করে ভাড়াটিয়া হিসেবে এলে তাঁদের পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সেই তথ্য স্থানীয় থানায় জমা দেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা অনেক সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে। চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানে ভাড়া বাড়িতে আত্মগোপন করে থাকা এক জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, সাধারণ আবাসন কিংবা ভাড়া বাড়িকে ব্যবহার করে জঙ্গিরা নিজেদের কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই কেবল পুলিশ বা প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। আবাসনে কোনও অচেনা ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও যদি তাঁর পরিচয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকে বা কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি চোখে পড়ে, তাহলে তা অবিলম্বে পুলিশকে জানানো উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিধায়কের বক্তব্য, দুর্গাপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে বহু সংস্থা, কারখানা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে। ফলে এই ধরনের এলাকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও গাফিলতি বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই আবাসনগুলির নিরাপত্তারক্ষীদের আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রবেশ ও প্রস্থানের নথিভুক্ত ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের পরিচয় যাচাই এবং সিসিটিভি নজরদারি কার্যকর রাখার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।