ওঙ্কার ডেস্ক: দুর্গাপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। সোমবার সকালে দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের সামনে বিজেপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে জুতোর মালা পরিয়ে, ডিম ছুড়ে এবং স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল নেতৃত্ব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে এবং রাজ্যে ‘হুমকির সংস্কৃতি’কে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
বিক্ষোভে উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। বিরোধী রাজনৈতিক দলকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে দমন করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বিজেপি কর্মীরা বলেন, রাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সেই বার্তাই পৌঁছে যাচ্ছে।
বিজেপির ওবিসি মোর্চার জেলা সম্পাদক স্বাধীন রায় বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য কোনও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার ভাষা হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, যদি এই ধরনের মন্তব্য ও রাজনৈতিক আচরণ অব্যাহত থাকে, তাহলে বিজেপি আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটবে।
সম্প্রতি আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয়ে প্রশাসনের ভাঙার অভিযানকে কেন্দ্র করেই এই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত। প্রশাসনের দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট নির্মাণ নিয়ে একাধিকবার নোটিস দেওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব না মেলায় আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিজেপি প্রশাসনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে। এরপর এক জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকার পরিবর্তন হলে একই আইনের মাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজ্যে তাদের একটি দলীয় কার্যালয়ও থাকবে না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, গেরুয়া উত্তরীয় দিয়ে মুখ ঢেকে কিছু বিজেপি কর্মী দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং সেই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।