ওঙ্কার ডেস্ক: শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করছিলেন বাঁকুড়ার তরুণ শেখ আবদুল হাফিজ। সেই কাজের জেরেই হামলার ঘটনায় বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামে হাফিজের বাড়িতে কয়েক দিন আগে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ছেলেকে বাঁচাতে সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর বাবা শেখ মাফিক। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
তবে বাবাকে হারিয়েও নিজের অবস্থান থেকে সরেননি হাফিজ। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা সত্ত্বেও সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চাননি তিনি। তাঁর দাবি, বাবার নামে বাংলার যে কোনও জায়গায় একটি বিশ্বমানের স্কুল তৈরি করা হোক। সেই স্কুলে প্রত্যেক পড়ুয়া যেন বিনামূল্যে উন্নত শিক্ষা পায়। তাঁর এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। বহু মানুষ তরুণের মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন অনেকে।
সোমবার হাফিজের বাড়িতে যান ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র কয়েকজন প্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দলের অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে আন্দোলনে হাফিজও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে নিজের এলাকাতেও সেই কাজ চালিয়ে যান তিনি। করিশুন্ডার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর বেহাল দশা দেখে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন হাফিজ। স্কুলটির পরিস্থিতি বদলের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সোমবার তাঁর বাড়িতে যান সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ এবং এসএফআইয়ের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাসও। তাঁরা হাফিজকে সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি হাফিজ। সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগত আর্থিক সাহায্যের পরিবর্তে সরকার চাইলে তাঁর বাবার নামে একটি স্কুল তৈরি করুক। সেই স্কুলে সাধারণ মানুষের সন্তানরা বিনামূল্যে ভালো শিক্ষা পাক।
হাফিজের পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই বার্তা দিয়েছেন। শোকের মধ্যেও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির কথা বলেছেন তাঁরা। হাফিজের দাবি, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই চলবে।