ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের ইন্টারনেটে শুরু হয়েছে এক নতুন ধরনের ডিজিটাল আন্দোলন। যা মূলত জেন- জির হাত ধরে শুরু। ঠিক তখনই আরশোলার দাপট থামাতে সোশ্যাল মিডিয়ার অলিন্দে আত্মপ্রকাশ করল আরও এক মারাত্মক ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটিরিক্যাল ফ্রন্ট – ন্যাশানাল পেরাসাইটিক দল বা এনপিএফ। এই মুহূর্তে ভারতীয় নেটিজেনদের দেওয়ালে দেওয়ালে ছড়িয়ে পড়েছে এই নতুন দলের পোস্টার। ভারতের যুবসমাজ এই দুই কাল্পনিক বা প্যারোডি দলকে নিয়ে এমনভাবে চর্চায় মেতেছে, যা দেখে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতেই পারে যে দেশে বুঝি নতুন কোনও লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে! যদিও উভয় দলই নিজেদেরকে ব্যঙ্গাত্মক বলে দাবি করে, তাদের দ্রুত অনলাইন সংগঠনগুলো ব্যাপক অংশগ্রহণ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের করা মন্তব্যের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অনলাইন প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের সংগঠিত প্যারোডি আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে উৎসাহিত করেছে। তেলাপোকা জনতা পার্টি নিজেদেরকে “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর” হিসেবে বর্ণনা করে এবং দাবি করে যে তাদের সদর দপ্তর “যেখানেই ওয়াইফাই কাজ করে” সেখানেই অবস্থিত। ১৬ই মে অভিজিৎ দীপকের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই দলটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে দ্রুত প্রসার লাভ করেছে এবং জানা গেছে যে, চালু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এর অনুসারীর সংখ্যা দশ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। দীপকে বলেছেন যে এই সাড়া প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এবং এই সমাবেশকে তিনি “সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিতর্কের পর এই ধারণাটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্ভূত হয়েছিল। জানা গেছে, তার প্রাথমিক পোস্ট, যেখানে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল “যদি সব তেলাপোকা একত্রিত হয়?”, সেটিই পরবর্তীতে ব্যাপক অংশগ্রহণের সাথে একটি বৃহত্তর অনলাইন আন্দোলনে পরিণত হয়। যদিও এটিকে স্পষ্টভাবে ব্যঙ্গাত্মক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, দলটির এই বিদ্রূপাত্মক ইশতেহারটি বাস্তব রাজনৈতিক উদ্বেগেরই প্রতিফলন ঘটায় এবং এতে প্রধান বিচারপতিদের জন্য অবসর-পরবর্তী রাজ্যসভার আসন না থাকা, বৈধ ভোট বাতিলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, মন্ত্রিসভাসহ নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ, ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দলত্যাগী বিধায়কদের দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার মতো প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভারতের এই অদ্ভুত ‘ডিজিটাল পলিটিক্যাল থিয়েটার’ বা মিম-রাজনীতির উৎপত্তি কিন্তু এক গভীর ক্ষোভ এবং সামাজিক প্রতিবাদ থেকে। গত ১৫ মে দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি শুনানির সময় করা বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই ঝড়ের সূত্রপাত। অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টে ভুয়ো আইন ডিগ্রির এক মামলার শুনানির সময় তিনি দেশের কিছু কর্মহীন যুবকদের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’-র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে শীর্ষ আদালতের তরফে স্পষ্ট করা হয় যে, প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্য স্রেফ জালিয়াতি চক্রের চাঁইদের উদ্দেশ্যে ছিল, সাধারণ যুবকদের জন্য নয়। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। প্রধান বিচারপতির সেই তির্যক অপমানকেই ‘অস্ত্র’ বানিয়ে ময়দানে নেমে পড়ে দেশের কোটি কোটি কর্মহীন ও হতাশ যুবসমাজ। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আর ‘ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট’ তারই প্রমাণ।