ওঙ্কার ডেস্ক: বারুইপুর নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুন নিয়ে তোলপার রাজ্য। দোষীদের ফাঁসীর দাবিতে সেচ্চার বঙ্গবাসী। সেই আবহেই সোমবার মোমবাতি মিছিল করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’-এর স্লোগান তোলা হয় মিছিল থেকে। কিন্তু এই আন্দোলনকে ঘিরে ব্যপক কটাক্ষের মুখে তৃণমূল সুপ্রিমো। নিজের দল ক্ষমতায় থাকাকালীন বঙ্গে নারী নির্যাতনের ঘটনাকে ‘অতি সামান্য’ করে দেখানোর প্রচেষ্টা ভোলেনি বঙ্গবাসী। ক্ষমতা থেকে সরতেই নারী সুরক্ষা নিয়ে পথে নামতেই সমালোচনার মুখে প্রক্তন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতে নাবালিকা ধর্ষণকে ‘লাভ অ্যাফেয়ার’ বলা মমতার এই আন্দোলোনের আসল লক্ষ্য কি শুধুই রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করা, প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার কালীঘাটে মোমবাতি মিছিল করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর মঙ্গলবার বারুইপুর-কাণ্ড-সহ একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদ মিছিল করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে ল্যান্সডাউন মার্কেট পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হবে। সেই কর্মসূচির জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হলেও তা মেলেনি। এরপরই কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করা হয়। মঙ্গলবার বেলা ২টোর পর মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের অনুমতির উপরই নির্ভর করছে কর্মসূচির ভবিষ্যৎ। এর আগে বারুইপুরে যাওয়া থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাতে তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে সরব হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল।
এদিকে বারুইপুরের ঘটনায় তদন্ত দ্রুত এগিয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মৃত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছিলেন নির্যাতিতার পপরিবার যেমন শাস্তি চান দোষীদের তেমনভাবেই শাস্তি দেওয়া হবে। মোটকথা দোষীদের শাস্তি এবং ঘটনার উপযুক্ত বিচারের জন্য তৎপর প্রশাসন তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু তাও প্রতিবাদে রাস্তায় মমতা এই নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলায় ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘিরে নানা রকম মন্তব্যে ব্যপক চর্চা হয়েছিল। কামদুনি, পার্কস্ট্রিট, হাঁসখালি, আরজিকর এর ঘটনাকে অতি সামান্য বলেছেন তিনি। নাবালিকা ধর্ষণকে ‘লাভ অয়াফেয়ার’, আরজিকর কান্ডের পর জনসাধারনের উদ্দেশ্যে ‘উৎসবে ফিরুন’ মন্তব্য, সম্প্রতি দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ কাণ্ডে ‘রাত আটটার পর মেয়েরা কেন বাইরে থাকবে’ এইসব মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষমতার বদল হতেই এখন নারীদের সম্মান রক্ষার্থে এখন আদালতের দারস্থ মমতা, এটাকে নিচ্ছকই একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার বলেই মনে করছে সাধারণ মানুষ।