ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সমীকরণে শুরু হতে চলেছে রাজ্যের আইনসভার পথচলা। ক্ষমতার পালাবদলের আবহে এবার বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ হিসেবে উঠে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং পরিষদীয় কার্যক্রমে তাঁর পারদর্শিতার উপর ভরসা রেখেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব।
রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন শাসকদলের আসনে থাকার পর এবার বিরোধী আসনে বসতে চলেছে। ফলে বিধানসভায় দলের কৌশল, বক্তব্য এবং সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম সামনে আসে। একইসঙ্গে বিধানসভায় দলের চিফ হুইপ অর্থাৎ বিধানসভায় মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা প্রবীণ নেতা ফিরহাদ হাকিমকে। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ, সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা এবং পরিষদীয় লড়াইকে আরও সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে ডেপুটি লিডার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, যা দলের মধ্যে নারী নেতৃত্বের গুরুত্ব এবং বিস্তৃত প্রতিনিধিত্বের বার্তাও বহন করছে। ক্ষমতা হারালেও তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল হতে দিতে রাজি নয়।
নতুন সরকারকে ঘিরে বিধানসভায় বিরোধী দলের ভূমিকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। সেই জায়গায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব তৃণমূলকে একদিকে যেমন সাংসদীয় লড়াইয়ে শক্তিশালী করবে, তেমনই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও তা বড় ভূমিকা নিতে পারে। তৃণমূলের পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধী পক্ষে থাকবে বাম জোট এবং নবনির্মিত মুসলিম দল জনতা উন্নয়ন পার্টি।