ওঙ্কার ডেস্ক: ২১ মে সকাল থেকেই শুউরু হয়ে গেছে দক্ষিন ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ। সকাল ৭ টা থেকে শুরু হয়েছে ভোট প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী সকাল টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ২০.৪৩%। পুনঃনির্বাচনের আগে থেকে ফলতা কেন্দ্র নিয়ে বাড়ছে জল্পনা। উল্লেখযোগ্যভাবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর শক্ত ঘাঁটি ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত ফলতা কেন্দ্র।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র বৃহস্পতিবার কার্যত রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন ঘিরে সকাল থেকেই ছিল কড়া নিরাপত্তা এবং টানটান উত্তেজনা। আগের দফার ভোটে বুথ দখল, ভোটারদের বাধা, বিরোধীদের মারধর এবং ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ ওঠার পরই কমিশন পুরো কেন্দ্রে ফের ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই কারণেই এবার ২৮৫টি বুথে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং কুইক রেসপন্স টিম।
সকাল থেকে বুথের বাইরে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়লেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটা চাপা আতঙ্ক ছিল স্পষ্ট। অনেকেই বলছেন, আগের ভোটের অভিজ্ঞতার পর এবার নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা ভরসা ফিরেছে। তবে রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা এক মুহূর্তের জন্যও কমেনি। বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বচসা, ধাক্কাধাক্কি এবং অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলতেই থাকে। কোথাও বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। আবার তৃণমূলের দাবি, বিজেপি বাইরের লোক এনে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করছে।
ফলতায় এই পুনর্নির্বাচন শুধুমাত্র একটি ভোটে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। ভোটের আগের কয়েকদিন থেকেই এলাকায় সংঘর্ষের আবহ ক্রমশ বাড়তে থাকে। একাধিক এলাকায় পার্টি অফিস ভাঙচুর, কর্মীদের মারধর এবং দখলদারির অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, এতদিন ফলতায় তৃণমূলের একচেটিয়া দাপট চললেও এবার সাধারণ মানুষ প্রথমবার স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ফলতায় একাধিকবার সফরে আসেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সভা, মিছিল এবং রোড শো থেকে তিনি সরাসরি তৃণমূল এবং বিশেষ করে জাহাঙ্গির খানকে নিশানা করেন। শুভেন্দুর দাবি ছিল, ফলতার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ের রাজনীতি চলেছে। তাঁর সভায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও নজর কেড়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু ব্যক্তিগতভাবে এই কেন্দ্রকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই আসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চমক। ভোটের মাত্র দু’দিন আগে আচমকাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয়ে যায় জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। নিজের বক্তব্যে জাহাঙ্গির দাবি করেন, এলাকার শান্তি এবং উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি তিনি শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন, যা রাজনৈতিক মহলে আরও চাঞ্চল্য তৈরি করে।
তৃণমূল অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বলে দাবি করেছে। দলের একাংশের বক্তব্য, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়েই জাহাঙ্গির খান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি কটাক্ষ করে বলেছে, নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই তিনি মাঠ ছেড়েছেন। জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং অভিযোগও এই ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।